খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরাকে অবস্থানরত নিজ নাগরিকদের দ্রুত দেশত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির দূতাবাস থেকে জারি করা এক জরুরি সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দূতাবাসের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইরান–সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরাকের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায়, মার্কিন নাগরিক ও যুক্তরাষ্ট্র–সম্পর্কিত স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।
সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং এরবিলে অবস্থিত কনস্যুলেট জেনারেলে আপাতত অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা হুমকি যেকোনো সময় তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরাকের আকাশসীমাও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান থাকায় অনেক ক্ষেত্রে বিমান চলাচল সীমিত বা বন্ধ রয়েছে। এতে করে দেশত্যাগের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও ব্যাহত হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে যারা ইরাক ছাড়তে ইচ্ছুক, তাদের জন্য বিকল্প হিসেবে স্থলপথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব এবং তুরস্কগামী সীমান্তপথগুলো তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এসব পথ ব্যবহার করার সময়ও স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পেছনে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা বড় ভূমিকা রাখছে। ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনপূর্ণ। এর ফলে প্রায়ই মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলা ঘটে থাকে।
নিচে বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| নিরাপত্তা ঝুঁকি | উচ্চ মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে |
| হামলার ধরন | ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রকেট |
| ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা | কুর্দি অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থান |
| আকাশপথ | আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ |
| বিকল্প পথ | জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, তুরস্কগামী স্থলপথ |
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় ইরাকে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের এই সতর্কবার্তা শুধু তাদের নিজ নাগরিকদের জন্যই নয়, বরং অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।