খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
রাজবাড়ী, শুক্রবার – পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পরিবহনটির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। দুর্ঘটনায় জড়িত সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটির নিবন্ধন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাসটির নিবন্ধন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে কি না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে মালিকপক্ষকে তলব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিআরটিএ রাজবাড়ী সার্কেলের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ অহিদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। এ সিদ্ধান্ত সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা ২০২২ অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গত ২৫ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সৌহার্দ্য পরিবহনের রাজবাড়ী-ব-১১-০০২৪ নম্বরের যাত্রীবাহী বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় পল্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অভিযানে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে ২৬ জন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় ভারসাম্য হারিয়ে দ্রুত নদীতে তলিয়ে যায়, ফলে যাত্রীদের অনেকেই বের হতে পারেননি। দুর্ঘটনার আকস্মিকতা ও দ্রুত ডুবে যাওয়ার কারণে হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই বিআরটিএ রাজবাড়ী সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক লিটন কুমার দত্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাসটির নিবন্ধন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
বিআরটিএর আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে—
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে বাসটির নিবন্ধন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে এবং মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
| বিষয় | তথ্য/বিস্তারিত |
|---|---|
| পরিবহন | সৌহার্দ্য পরিবহন |
| বাস নম্বর | রাজবাড়ী-ব-১১-০০২৪ |
| দুর্ঘটনার স্থান | দৌলতদিয়া ৩নং ফেরিঘাট, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী |
| দুর্ঘটনার সময় | ২৫ মার্চ, বিকেল আনুমানিক ৫:৩০ |
| দুর্ঘটনার ধরন | ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে পড়ে যাওয়া |
| নিহত | ২৬ জন |
| আহত | অন্তত ৫ জন |
| ব্যবস্থা | নিবন্ধন সাময়িক স্থগিত |
| আইনি ভিত্তি | সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮, বিধিমালা ২০২২ |
| পরবর্তী পদক্ষেপ | কারণ দর্শানোর নোটিশ, স্থায়ী বাতিলের সম্ভাবনা |
এই দুর্ঘটনা দেশের ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফেরিতে ওঠানামার সময় যথাযথ নির্দেশনা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
বিশেষ করে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ দেশের অন্যতম ব্যস্ত রুট হওয়ায় এখানে প্রতিদিন শত শত যানবাহন পারাপার হয়। ফলে সামান্য অবহেলাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
পদ্মা নদীতে বাসডুবির এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। বিআরটিএর দ্রুত পদক্ষেপ ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কঠোর নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ছাড়া এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।