খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
ইরানের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তার প্রভাব নিয়ে দৈনন্দিন জীবনযাপনের বর্ণনা উঠে এসেছে দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসেফ পেজেশকিয়ানের লেখা দিনলিপিতে। যুদ্ধ ও ভাঙচুর, সরকারের পদক্ষেপ এবং সাধারণ মানুষের দুর্দশা নিয়ে প্রকাশিত এই লেখা কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রতিফলন নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির একটি বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে।
২০২৪ সালে সাবেক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইউসেফের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি। ৪৫ বছর বয়সী পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ইউসেফ কোনো রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস করেন না। তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনের মাধ্যমে যুদ্ধের অগ্রগতি, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর এবং সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে তার দিনলিপিতে তুলে ধরেন।
দিনলিপিতে তিনি লিখেছেন, “দুপুরবেলা ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দ শোনা গেল, আর তখন বৃষ্টি হচ্ছিল। তেহরানের আবহাওয়া বসন্তের মতো মনোরম হয়ে উঠেছিল। যদি যুদ্ধ না হত, আমি পরিবারকে নিয়ে শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়াতাম।”
ইউসেফের লেখা থেকে বোঝা যায়, তিনি দেশের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব সমর্থন করেন এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপকে যথাযথ মনে করেন। তবে তিনি ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এবং সেন্সরড সংবাদ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবেশী দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিকে নিয়েও দ্বিধা প্রকাশ করেছেন।
একটি ঘটনা তার দিনলিপিতে উল্লেখযোগ্য:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্বপ্ন ও বাস্তবের মিল | বন্ধুর বাড়ির কাছে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত স্বপ্নে দেখেছিল, পরের দিন বাস্তবে ঘটেছে। |
| ব্যক্তিগত আবেগ | দাদিকে দেখার সময় তিনি কেঁদে ফেলেছেন, ইউসেফ সান্ত্বনা দিয়েছেন। |
| যুদ্ধের প্রশ্ন | কতদিন লড়াই চলবে, শেষপর্যায়ের দৃশ্যপট কোনটি হবে। |
| অস্ত্র ও প্রস্তুতি | ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং উৎপাদন ক্ষমতা কতদিন যুদ্ধ চালাতে পারবে। |
ইউসেফ লিখেছেন, “সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তথ্যের প্রয়োজন। আমাদের অস্ত্র সরবরাহের সক্ষমতা মূল্যায়ন করতে হবে এবং শত্রুর প্রস্তুতির তুলনায় আমাদের টিকে থাকার ক্ষমতা বিচার করতে হবে।” তিনি যুদ্ধের পরিণতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
দিনলিপির অন্য অংশে ব্যক্তিগত মুহূর্তও উঠে এসেছে। যুদ্ধের ১৯ দিন পর ইউসেফ কেঁদে ফেলেন। তিনি লিখেছেন, “দাদিকে দেখতে গিয়েছিলাম, তিনি যুদ্ধের খবর জানতেন না। সবশেষে তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, সব ঠিক আছে। কিন্তু বাইরে বের হওয়ার পর আমি কাঁদতে থাকি—কোনো কিছুই স্বাভাবিক নয়।”
ইউসেফের দিনলিপি যুদ্ধের বাস্তবতা, রাজনৈতিক ও সামাজিক দ্বন্দ্ব এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উপর তার প্রভাবের একটি গভীর চিত্র উপস্থাপন করছে। এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত অনুভূতির লেখা নয়, বরং ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত।
প্যাট্রিক উইনটুর, দ্য গার্ডিয়ান