খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকার মৃত্যু সামাজিক ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ত্রুটিকে আবারও তুলে ধরল। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসেন নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর গ্রামের জোসনা আরা। তিনি মিঠাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা এবং আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী।
জোসনা আরা নিজেই জরুরি বিভাগের শয্যায় শুয়ে পড়েন। কিন্তু ঐ সময় দায়িত্বরত চিকিৎসক সুমাইয়া তৃষা দুপুরের খাবারের জন্য বাইরে ছিলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেবল সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) নাহিদা সুলতানা। রোগীর অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করে স্যাকমো দ্রুত চিকিৎসককে ফোন করেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদকেও বিষয়টি জানানো হয়।
তবে চিকিৎসক না আসায় প্রায় ২০ মিনিট অতিবাহিত হয়, এবং ততক্ষণে জোসনা আরা চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনাস্থলে এসে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা স্বয়ং রোগীর মৃতদেহ দেখতে পান।
মৃত শিক্ষিকার মেয়ের জামাই হোসেন আলী অভিযোগ করেন,
“আমার শাশুড়ি বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলছিলেন এবং নিজেই বেডে শুয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসক সময়মতো না আসায় চিকিৎসা না পেয়ে তিনি মারা যান। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি চাই।”
দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক সুমাইয়া তৃষা বলেন,
“দুপুরের খাবারের জন্য আমি বাইরে ছিলাম। স্যাকমোর ফোনে দ্রুত গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পাই। তখন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ বলেন,
“জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় খবর পেয়ে আমি নিজেই রোগীর কাছে ছুটে যাই। কিন্তু গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পাই। স্বজনদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাদের কোনো অভিযোগ নেই। ঘটনাটি নিয়ে তথ্য বিভ্রাট ছড়ানো হচ্ছে।”
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন রেজা জানান, রোগীর মৃত্যু ও হাসপাতলে চিকিৎসক অনুপস্থিতির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। মৃত্যুর প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্বজনরা মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।
ঘটনার আলোকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব ও প্রক্রিয়া আরও সুনির্দিষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নিম্নে সাম্প্রতিক তথ্য সারণীতে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মৃতার নাম | জোসনা আরা |
| বয়স | ৫৮ (প্রায়) |
| পেশা | অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা, মিঠাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় |
| হাসপাতাল | আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
| মৃতু্য সময় | ৩১ মার্চ, বিকেল ৩টা |
| দায়িত্বরত চিকিৎসক | সুমাইয়া তৃষা |
| উপস্থিত স্যাকমো | নাহিদা সুলতানা |
| হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ | ডা. আবু শফি মাহমুদ |
| পুলিশ উপস্থিতি | আক্কেলপুর থানা |
| মৃত্যুর কারণ | জরুরি চিকিৎসার অভাবে হঠাৎ বুকে ব্যথা ও অসুস্থতা |
এই দুঃখজনক ঘটনা স্বাস্থ্যের অব্যবস্থাপনা ও জরুরি সেবা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে তুলে ধরে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে এখন থেকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক উপস্থিতি নিশ্চিত করা ও প্রতিক্রিয়াশীল প্রক্রিয়া প্রবর্তনের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।