শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় সড়কের পাশে পরিত্যক্ত একটি ট্রাংকের ভেতর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে শ্রীবরদী পৌর শহরের তাতিহাটি এলাকার ডালিবাড়ী মোড় সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে শ্রীবরদী থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সকালে একটি রিকশা-ভ্যান ওই এলাকায় একটি ট্রাংক ফেলে রেখে যায়। প্রথমে সেটিকে পরিত্যক্ত মালামাল ভেবে কেউ গুরুত্ব দেয়নি। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও কেউ ট্রাংকটি নিতে না আসায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে ট্রাংকের আশপাশে অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ ও মাছির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা শ্রীবরদী থানা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাংকটি ঘিরে ফেলে এবং প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেটি খুলে ফেলে। ট্রাংকের ভেতর থেকে তোষক ও চাদরে মোড়ানো অবস্থায় একজন মাঝবয়সী নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের ধারণা, নিহত নারীকে অন্য কোথাও হত্যা করার পর মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে ট্রাংকের ভেতরে ভরে সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। মরদেহটি বেশ কয়েক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় আগে ফেলা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই এমন নৃশংস ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
নিচে ঘটনাটির একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যসারণি দেওয়া হলো—
| বিষয় |
তথ্য |
| স্থান |
ডালিবাড়ী মোড়, শ্রীবরদী পৌর শহর, শেরপুর |
| সময় |
বুধবার, দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টা |
| উদ্ধারকৃত বস্তু |
পরিত্যক্ত ট্রাংক |
| মরদেহের অবস্থা |
অর্ধগলিত, তোষক ও চাদরে মোড়ানো |
| পরিচয় |
অজ্ঞাতনামা নারী |
| আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা |
শ্রীবরদী থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে |
| সম্ভাব্য ধারণা |
পরিকল্পিত হত্যার পর মরদেহ গোপন |
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের পরিচয় শনাক্তে প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং আশপাশের নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজও চলমান রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।