বাংলাদেশ আগামী ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের প্রার্থী। এ প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন চাওয়ার জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বুধবার (১ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মাল্টার অনাবাসিক হাইকমিশনার রিউবেন গওসি-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাতের সময় উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময় করেন। তারা শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষ করে বাণিজ্য, শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা ও অভিবাসন খাতে সহযোগিতা আরও প্রসারিত করার বিষয়ে আলাপচারিতা হয়।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা
বাংলাদেশ ও মাল্টার মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টের (FTA) গুরুত্ব দুই পক্ষই স্বীকৃতি দেন। এই উদ্যোগে দেশ দুটির মধ্যে পণ্য ও সেবার সহজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।
| বিষয় |
বাংলাদেশ |
মাল্টা |
লক্ষ্য/উদ্দেশ্য |
| দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য |
পণ্য রপ্তানি, সেবা বিনিময় |
পণ্য ও সেবা আমদানি |
বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন বাজার উন্মোচন |
| শিক্ষা |
শিক্ষার্থী বিনিময়, প্রশিক্ষণ |
উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, স্কলারশিপ |
দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা সহযোগিতা |
| ভিসা সুবিধা |
সহজীকৃত ভিসা প্রক্রিয়া |
দ্রুত অনুমোদন |
সময় ও ব্যয় সাশ্রয়, কর্মসংস্থান সহজ করা |
| লিঙ্গ সমতা |
কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ |
নীতি প্রয়োগ |
সমান সুযোগ সৃষ্টি, সমাজ উন্নয়ন |
| অভিবাসন |
কর্মী প্রেরণ ও প্রশিক্ষণ |
গ্রহণযোগ্যতা ও সেবা |
অভিবাসী নিরাপত্তা, দক্ষ শ্রমবাজার |
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মাল্টার ভিসা সেবা সহজ করার উদ্যোগকে স্বাগত জানান। এ ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ে সহায়ক হবে।
উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক পরিসরে রাজনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে একে অপরকে সমর্থন দেওয়া এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ বিশ্বমঞ্চে দেশটির কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। বিশেষত মাল্টার মতো ইউরোপীয় অংশীদারের সমর্থন বাংলাদেশের সভাপতিত্ব প্রার্থিতাকে বাস্তবে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মাল্টা এবং বাংলাদেশ উভয়ই দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
এই সাক্ষাতের মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে সমন্বয় বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হলো।