খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী Bruce Springsteen–এর চলমান সংগীত সফরকে কেন্দ্র করে সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রকাশ্যে তাঁর সমর্থকদের ওই সফর বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। এই ঘটনার মাধ্যমে দুইজনের মধ্যে দীর্ঘদিনের চলমান মতাদর্শগত ও সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব নতুন করে সামনে এসেছে।
ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্প্রিংস্টিনের সংগীত, পরিবেশনা এবং ব্যক্তিগত অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, স্প্রিংস্টিনের কনসার্টগুলো ব্যয়বহুল এবং সাধারণ দর্শকদের জন্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী বলে দাবি করেন এবং বর্তমান প্রশাসন ও ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে তুলনা টেনে নিজের অবস্থানকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
অন্যদিকে, স্প্রিংস্টিন তাঁর সাম্প্রতিক সংগীত সফরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই রাজনৈতিক মন্তব্য করে আলোচনার জন্ম দেন। মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস শহরে অনুষ্ঠিত সেই কনসার্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যে তিনি প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতার ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
স্প্রিংস্টিন পূর্বে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, এই সফর শুধু বিনোদনের জন্য নয় বরং সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, ট্রাম্প সত্যের মুখোমুখি হতে পারেন না বলে তিনি মনে করেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের সংগীতশিল্পীদের সংগঠন ফেডারেশন অব মিউজিশিয়ানস একটি বিবৃতি দিয়ে স্প্রিংস্টিনের পাশে দাঁড়ায়। তারা শিল্পীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেয় এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের নিন্দা জানায়।
| সময়কাল | ঘটনা |
|---|---|
| সফরের উদ্বোধনী রাত | স্প্রিংস্টিন রাজনৈতিক বক্তব্য দেন |
| পরবর্তী দিন | ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা করেন |
| একই সময় | বয়কটের আহ্বান জানান ট্রাম্প |
| এরপর | সংগীতশিল্পীদের সংগঠন সমর্থন জানায় |
| পরবর্তী ধাপ | স্প্রিংস্টিন সরাসরি প্রতিক্রিয়া না দিলেও পূর্বের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করেন |
স্প্রিংস্টিন এখনো ট্রাম্পের বয়কট আহ্বানের সরাসরি জবাব দেননি। তবে অতীতে তিনি একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি রাজনৈতিক কারণে মত প্রকাশ থেকে পিছপা হবেন না। তাঁর মতে, শিল্পীর দায়িত্বই হলো সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা, এমনকি তা বিতর্ক সৃষ্টি করলেও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র একজন শিল্পী ও একজন রাজনীতিকের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সাংস্কৃতিক বিভাজনের একটি প্রতিফলন, যেখানে বিনোদন, মতপ্রকাশ এবং রাজনীতি ক্রমশ একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে।