খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দীর্ঘকাল ধরে অবহেলিত থাকা সাবেক ক্রিকেটার এবং ম্যাচ অফিসিয়ালদের আর্থিক ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি পেনশন স্কিম চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। গতকাল বোর্ডের চতুর্থ সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো অবসরের পর খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি মর্যাদাপূর্ণ এবং স্বচ্ছল জীবনযাপনের নিশ্চয়তা প্রদান করা।
পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর অনেক খেলোয়াড়ই বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হন। পর্যাপ্ত সঞ্চয় বা আয়ের বিকল্প উৎস না থাকায় জীবনযাত্রার মান বজায় রাখা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। শুধু ক্রিকেটাররাই নন, মাঠের আম্পায়ার ও রেফারিদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। বিসিবির এই নবগঠিত পেনশন স্কিমটি মূলত এই ধরণের অনিশ্চয়তা দূর করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়াস। এর মাধ্যমে যারা তাদের জীবনের স্বর্ণালি সময়গুলো দেশের ক্রিকেটের পেছনে ব্যয় করেছেন, তাদের প্রতি বিসিবি তার দায়বদ্ধতা প্রকাশ করছে।
বিসিবি মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান মোখছেদুর রহমান বাবু এই প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন। তিনি জানান যে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির কাজ হবে পেনশনের যোগ্যতার মানদণ্ড, অর্থের পরিমাণ এবং এর বিতরণের পদ্ধতি নির্ধারণ করা।
“আমরা নীতিগতভাবে খেলোয়াড় এবং ম্যাচ অফিসিয়ালদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছি। কমিটি আগামী বোর্ড সভায় একটি পূর্ণাঙ্গ এবং বিস্তারিত প্রস্তাবনা পেশ করবে।” — মোখছেদুর রহমান বাবু, চেয়ারম্যান, বিসিবি মিডিয়া কমিটি।
প্রস্তাবিত এই স্কিমটি শুধুমাত্র বর্তমান খেলোয়াড়দের জন্য নয়, বরং যারা অতীতে দেশের জন্য খেলেছেন তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করবে। নিচে একটি সম্ভাব্য তালিকার ছক প্রদান করা হলো যা প্রস্তাবিত কাঠামোতে থাকতে পারে:
| ক্যাটাগরি | অন্তর্ভুক্ত সদস্য | সম্ভাব্য সুবিধার ভিত্তি |
| সাবেক ক্রিকেটার | অবসরপ্রাপ্ত জাতীয় দলের খেলোয়াড় | আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা ও অভিজ্ঞতার বছর |
| বর্তমান ক্রিকেটার | বর্তমানে চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় | খেলোয়াড়ী জীবনের স্থায়িত্ব ও অবদান |
| ম্যাচ অফিসিয়াল | আম্পায়ার ও রেফারি | পরিচালনার ম্যাচ সংখ্যা ও অভিজ্ঞতার স্তর |
| ঘরোয়া ক্রিকেটার | প্রথম শ্রেণির অভিজ্ঞ ক্রিকেটার | ঘরোয়া লিগে পারফরম্যান্স ও দীর্ঘসূত্রিতা |
১. আর্থিক নিরাপত্তা: খেলোয়াড়রা যখন শারীরিক সক্ষমতা হারান বা ফর্মে না থাকার কারণে দল থেকে ছিটকে পড়েন, তখন এই মাসিক পেনশন তাদের একটি আয়ের নিশ্চয়তা দেবে।
২. নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা: যারা ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নিতে ভয় পান, এই ধরণের নিরাপত্তা স্কিম তাদের পেশাদারিত্বের প্রতি উৎসাহিত করবে।
৩. ম্যাচ অফিসিয়ালদের মূল্যায়ন: মাঠের বাইরে থেকে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, সেই আম্পায়ার ও অফিসিয়ালদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
৪. মর্যাদা রক্ষা: অনেক সময় দেখা যায় কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা শেষ বয়সে অর্থের অভাবে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। পেনশন ব্যবস্থা চালু হলে এ ধরণের দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।
বিসিবির এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ বোর্ড হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করবে। ভারতের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোতে ইতিমধ্যেই এ ধরণের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উত্তরোত্তর উন্নতির সাথে সাথে খেলোয়াড়দের জীবনমানের এই উন্নতি নিঃসন্দেহে দেশের সামগ্রিক ক্রীড়া সংস্কৃতিকে ইতিবাচক দিকে ধাবিত করবে। তবে এই প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে একটি দীর্ঘমেয়াদী তহবিল গঠন এবং স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন করাই এখন বিসিবির জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। কমিটির আগামী প্রতিবেদন থেকেই স্পষ্ট হবে কীভাবে এই বিশাল সংখ্যক সাবেক ও বর্তমান তারকাদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা সম্ভব হবে।