জিজি হাদিদ প্রকাশ্যে এপস্টেইন নথিতে নিজের উদ্বেগ ব্যক্ত

মার্কিন সুপারমডেল জিজি হাদিদ সম্প্রতি বহুল আলোচিত জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি-তে নিজের নাম উঠে আসা নিয়ে মুখ খুলেছেন। ৩০ বছর বয়সী এই মডেল জানিয়েছেন, বিষয়টি জানতে পারার পর তিনি ‘অত্যন্ত ঘৃণিত ও অসুস্থ বোধ’ করেছেন।

ইনস্টাগ্রামে এক ভক্তের মন্তব্যের জবাবে (যা পরে মুছে ফেলা হয়) জিজি বলেন, “কাউকে কখনো দেখেননি, অথচ সেই ব্যক্তি আপনার সম্পর্কে এমনভাবে কথা বলছে—বিশেষ করে এই প্রেক্ষাপটে—এটি পড়া অত্যন্ত ভয়ংকর।” তিনি জোর দিয়ে স্পষ্ট করেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার কখনো কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ ছিল না। জিজি বলেন, “আমি জীবনে কখনো ওই দানবের সঙ্গে দেখা করিনি।”

জিজি হাদিদ বিশ্বাস করেন, এপস্টেইন নিজের প্রভাব খাটিয়ে এবং মানুষের ক্যারিয়ার গড়ে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করতেন। তাই বিভিন্ন মানুষের নাম তার নথিতে উঠে এসেছে। তবে এত দিন তিনি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, কারণ এতে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের গল্প থেকে মনোযোগ সরে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা ছিল তাঁর।

জিজি তার পারিবারিক পটভূমি নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, তিনি সুবিধাপ্রাপ্ত পরিবেশে বড় হয়েছেন, তবে বাবা-মা তাকে কঠোর পরিশ্রমের মূল্য শিখিয়েছেন। ১৮ বছর বয়সে বিভিন্ন মডেলিং এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন জিজি। ২০১২ সালে তিনি একটি বড় সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন এবং এরপর নিজের পরিশ্রম ও প্রতিভার মাধ্যমে সুপারমডেল হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি এপস্টেইন সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করেছে। এতে ২০১৫ সালের একটি ইমেইল আদান-প্রদানে জিজি ও তার বোন বেলা হাদিদ-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ইমেইলে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি হাদিদ বোনদের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যার জবাবে এপস্টেইন কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

তবে জিজি হাদিদ পুনর্ব্যক্ত করেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং নথিতে নাম জড়িয়ে যাওয়াকে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করেন।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে এপস্টেইন যৌন ব্যবসায় নাবালিকাদের যুক্ত করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন এবং কারাদণ্ড ভোগ করেন। পরে ২০১৯ সালে আবারও নাবালিকা পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। বিচার শুরুর আগেই তিনি কারাগারে আত্মহত্যা করেন। তার সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে যৌন পাচারের দায়ে ২০ বছরের সাজা ভোগ করছেন।

নিচের টেবিলে জিজি হাদিদের বক্তব্য ও সংক্রান্ত তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয় বিবরণ
শিল্পী জিজি হাদিদ
বয়স ৩০ বছর
বিষয় জেফরি এপস্টেইন নথিতে নাম উঠে আসা
প্রতিক্রিয়া ‘অত্যন্ত ঘৃণিত ও অসুস্থ বোধ’
সম্পর্ক এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ নেই
পারিবারিক পটভূমি সুবিধাপ্রাপ্ত, কঠোর পরিশ্রম শিখেছেন
মডেলিং ক্যারিয়ার ১৮ বছর বয়সে শুরু, ২০১২ সালে বড় সংস্থার সঙ্গে চুক্তি
নথি উল্লেখ ২০১৫ সালের ইমেইল আদান-প্রদানে নাম উল্লেখ
বর্তমান প্রেক্ষাপট নথিতে নাম জড়িয়ে যাওয়াকে উদ্বেগজনক মনে করছেন
এপস্টেইন বিচার ও ইতিহাস ২০০৫-২০১৯, যৌন পাচারের অভিযোগ, ২০১৯ সালে কারাগারে মৃত্যু
সহযোগী গিলেইন ম্যাক্সওয়েল, ২০ বছরের সাজা

সংক্ষেপে, জিজি হাদিদ স্পষ্ট করেছেন যে, তার নাম নথিতে উঠে আসা কেবল কাকতালীয় এবং তার সঙ্গে এপস্টেইনের কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা যোগাযোগ ছিল না। এই বিবৃতি তার পেশাদারিত্ব, সততা এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি সহানুভূতির প্রতিফলন। এটি একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তার সতর্ক ও দায়িত্বশীল মনোভাবের পরিচায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।