খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই এপ্রিল ২০২৬, ৫:৩৮ পিএম
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক অন্যান্য উপদেষ্টাসহ মোট ২৪ জন ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ জানিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, হামের (Measles) টিকাকে রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে সরিয়ে বেসরকারি খাতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাঁরা জড়িত ছিলেন, যা নিয়ে আইনি ও নীতিগত প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম এই লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন। তিনি জানান, জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যনীতির সুরক্ষার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। (সংবাদমাধ্যম ‘জাগো নিউজ’ অনুসারে)
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তাধীন বা পর্যালোচনাধীন অবস্থায় থাকলে তারা যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা বা প্রমাণ বিনষ্টের ঝুঁকি এড়াতে এই নিষেধাজ্ঞা জরুরি বলে দাবি করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের লিগ্যাল নোটিশ সাধারণত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার প্রতি পাঠানো হয়, যাতে তারা প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। তবে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সাধারণত নির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রাথমিক প্রমাণ এবং তদন্ত সংস্থার সুপারিশ প্রয়োজন হয়।
এই ঘটনায় ২৪ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানানো হলেও পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্বাস্থ্য খাতের নীতিগত পরিবর্তন এবং বিশেষ করে টিকাদান কর্মসূচির বেসরকারিকরণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রক্রিয়া।
নিচে বিষয়টির সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নোটিশ প্রেরণকারী | ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম |
| নোটিশ প্রাপক | সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ |
| প্রধান অভিযুক্ত | ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ২৪ জন |
| অভিযোগের বিষয় | হামের টিকা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে বেসরকারি খাতে স্থানান্তর |
| দাবি | দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ |
| নোটিশের তারিখ | সোমবার, ৬ এপ্রিল |
| তথ্যসূত্র | (সংবাদমাধ্যম ‘জাগো নিউজ’ অনুসারে) |
বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্য খাতের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বিশেষ করে টিকাদান কর্মসূচি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নাকি বেসরকারি অংশগ্রহণে পরিচালিত হওয়া উচিত—এ বিষয়টি বহু দেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তবে এই ক্ষেত্রে সরাসরি আইনি পদক্ষেপের আহ্বান বিষয়টিকে আরও জটিল ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল করে তুলেছে।
এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই লিগ্যাল নোটিশের ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে কি না, কিংবা বিষয়টি তদন্তে যায় কি না—তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য