খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
বাংলা চলচ্চিত্রের এক অমর কল্পচিত্র রূপী নায়িকা, সুচিত্রা সেন আজও প্রজন্মের প্রজন্মকে মুগ্ধ করে রাখেন। রূপ, অভিনয়, এবং অদ্বিতীয় উপস্থিতি—এ তিনটির সংমিশ্রণে তিনি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে অনন্য স্থান অধিকার করেছেন। ১৯৩১ সালের আজকের দিনটি চিরস্মরণীয়, কারণ পাবনা সদরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই চিরসবুজ নায়িকা, যার প্রকৃত নাম রমা দাশগুপ্ত।
পরিবারের সঙ্গে দেশভাগের আগে ১৯৪৭ সালে কলকাতায় আসেন তিনি। পরিবারের ইচ্ছা এবং সমকালীন সমাজের প্রেক্ষাপটে রমা বিয়ে করেন শিল্পপতি আদিনাথ সেনের ছেলে দিবানাথ সেনকে। বিয়ের পরই তিনি স্বামীর উৎসাহে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন।
১৯৫১ সালে পরিচালক সুকুমার রায় ‘সাত নম্বর কয়েদী’ সিনেমার জন্য নতুন মুখ খুঁজছিলেন। স্বামী দিবানাথের সঙ্গে তিনি অরোরা স্টুডিওতে পৌঁছান। ডাগর চোখের গভীর চাহনি এবং মিষ্টি হাসির জন্য রমা সেন পরিচালককে মুগ্ধ করেন। যদিও তাঁর প্রথম সিনেমা ‘শেষ কোথায়’ (১৯৫২) মুক্তি পায়নি, ‘সাত নম্বর কয়েদী’ দিয়েই টালিউডে যাত্রা শুরু। নীরেন লাহিড়ীর ‘কাজরী’ সিনেমায় ১৯৫২ সালে তিনি ‘সুচিত্রা সেন’ নামে আত্মপ্রকাশ করেন।
১৯৫৩ সালে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি উত্তম কুমারের সঙ্গে প্রথম জুটি বাঁধেন। এরপরের কীর্তি শুধুই ইতিহাস। এই যুগলবন্দি বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠে।
সুচিত্রা সেন অভিনীত কিছু কালজয়ী সিনেমার তালিকা নিম্নে দেওয়া হলো:
| সিনেমা | প্রকাশ সাল | উল্লেখযোগ্য তথ্য |
|---|---|---|
| দেবী চৌধুরানী | ১৯৬২ | বাংলা সাহিত্য অবলম্বন |
| শাপ মোচন | ১৯৬৭ | জনপ্রিয় নাট্যসিনেমা |
| হারানো সুর | ১৯৫৮ | রোমান্টিক নাটক |
| সাপ্তপদী | ১৯৬১ | মস্কো ফিল্ম ফেস্টিভাল সেরা অভিনেত্রী পুরস্কার |
| দত্তা | ১৯৬৪ | সামাজিক প্রেক্ষাপটের চলচ্চিত্র |
| সাত পাকে বাঁধা | ১৯৬৩ | রোমান্টিক ও সমাজমুলক |
বাংলার সীমা ছাড়িয়ে হিন্দি ছবিতেও তিনি অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৫৫ সালে ‘দেবদাস’-এ দিলীপ কুমারের বিপরীতে পার্বতীর চরিত্রে অভিনয় করে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন। পরে ‘মমতা’ ও ‘আন্ধি’ সিনেমার জন্যও তিনি বলিউডের প্রশংসা অর্জন করেন।
১৯৬৩ সালে ‘সপ্তপদী’ সিনেমার মাধ্যমে মস্কো ফিল্ম ফেস্টিভালে তিনি সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। এটি ছিল কোনো ভারতীয় অভিনেত্রীর জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
১৯৭৮ সালে ‘প্রণয় পাশা’ সিনেমার মাধ্যমে ২৫ বছর অভিনয় জীবনের পর চলচ্চিত্র জগত থেকে চিরতরে বিদায় নেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি পরিবারকে সময় দেন, যা শেষপর্যন্ত তাঁর কন্যা মুনমুন সেন ও নাতনীরা—রিয়া ও রাইমা—এর অভিনয় ক্যারিয়ারের প্রতি প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
সুচিত্রা সেন ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। বাংলা চলচ্চিত্রের এই মহায়িকাকে আজও ভক্তরা স্মরণ করেন তাঁর অবিস্মরণীয় রূপ, দক্ষতা ও চিরস্থায়ী শিল্পীজীবনের জন্য।