খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহির ক্যারিয়ারে অপ্রত্যাশিত সংকট দেখা দিয়েছে। তাঁর অংশগ্রহণে সম্প্রতি প্রকাশিত সিনেমা ‘কেডি: দ্য ডেভিল’-এর গান ‘সরকে চুনার তেরি সরকে’ নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গানে নোরা ও সঞ্জয় দত্তের পারফরম্যান্সের কুরুচিকর দৃশ্য এবং অশালীন কথার অভিযোগ উঠায় গানটি প্রকাশের কয়েকদিনের মধ্যে হিন্দি সংস্করণ ইউটিউব থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে প্রযোজক-প্রকাশকরা।
ভারতের জাতীয় মহিলা কমিশন বিষয়টি নজর এড়িয়ে রাখতে পারেনি। কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার কমিশনের এক শুনানিতে সাফ জানানো হয়েছে, “সৃজনশীলতার আড়ালে নারীর মর্যাদার সঙ্গে আপস করা মোটেই বরদাশত করা হবে না।”
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| গান | সরকে চুনার তেরি সরকে |
| সিনেমা | কেডি: দ্য ডেভিল |
| প্রধান শিল্পী | নোরা ফাতেহি, সঞ্জয় দত্ত |
| অভিযোগ | অশালীন কথা, কুরুচিকর দৃশ্য |
| পদক্ষেপ | ইউটিউব থেকে গান সরানো, কমিশনের মামলা |
| শুনানি তারিখ | সোমবার, এপ্রিল ২০২৬ |
| নোরা ফাতেহির উপস্থিতি | অনুপস্থিত, আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব |
| কমিশনের নির্দেশ | ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সশরীরে হাজির হওয়ার সময়সীমা |
সোমবারের শুনানিতে সিনেমার পরিচালক প্রেম, গীতিকার রাকিব আলম এবং প্রযোজনা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে নোরা ফাতেহি উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর আইনজীবী উপস্থিত থাকলেও কমিশন তা গ্রহণযোগ্য মনে করেনি। কমিশন নোরা ফাতেহিকে সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছেন।
নির্মাতারা দাবি করেছিলেন যে, তারা গানের কথার গভীর অর্থ বুঝতে পারেননি। তবে কমিশন সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে। এর পর নির্মাতারা লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং আগামী তিন মাস নারী ক্ষমতায়নের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
গান প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। নেটিজেনদের পাশাপাশি চলচ্চিত্র জগতের অনেক ব্যক্তিত্বও গানটির অশ্লীল ও আপত্তিজনক কথার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। এরপর দিল্লি পুলিশের সাইবার সেলে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের কাছে গানটি নিষিদ্ধ করার আবেদন জানানো হয়।
জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন শুনানিতে মন্তব্য করেন, “সৃজনশীলতার নামে নারী মর্যাদার সঙ্গে আপস একেবারেই করা যায় না।” এই ঘটনার ফলে নোরা ফাতেহি ও চলচ্চিত্র জগতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আইনি ও সামাজিকভাবে বড় ধরনের চাপের মুখোমুখি হয়েছেন।