ইরানের স্থগিত ও জব্দকৃত সম্পদ ছাড় দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। ইরানি প্রতিনিধিদলের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হওয়ার পরই তেহরান নতুন করে আলোচনায় অংশ নিতে রাজি হয়েছে।
তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউসও পূর্বে এমন একটি দাবিকে অস্বীকার করেছিল বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলোচনার পটভূমি
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থগিত সম্পদ, নিষেধাজ্ঞা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা চলছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর বিভিন্ন দেশে থাকা ইরানি সম্পদ জব্দ বা সীমিত ব্যবহারের আওতায় আসে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনা শুরুর আগে ইরান কয়েকটি শর্ত বা প্রস্তাব উত্থাপন করে, যার মধ্যে অন্যতম ছিল বিদেশে জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্ত করার দাবি।
আল-জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদন
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি প্রতিনিধিদলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র কাতারসহ কয়েকটি বিদেশি ব্যাংকে থাকা ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। এই অগ্রগতির ভিত্তিতেই তেহরান আলোচনায় অংশগ্রহণে সম্মত হয়।
অন্যদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইসলামাবাদে আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে এবং কাতারভিত্তিক অর্থনৈতিক সম্পদ মুক্তির বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তবে সেই প্রতিবেদনের পরপরই হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, এমন কোনো চুক্তি বা সিদ্ধান্ত হয়নি।
ইরানের শর্ত ও কূটনৈতিক অবস্থান
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও জব্দ সম্পদ ফেরতের বিষয়টিকে আলোচনার মূল শর্ত হিসেবে সামনে রেখেছে। সাম্প্রতিক আলোচনায় ইরান অন্তত ১০ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে—
- বিদেশে জব্দ ইরানি সম্পদ ফেরত
- ব্যাংকিং লেনদেনে সীমাবদ্ধতা শিথিল
- তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা হ্রাস
- মানবিক ও ওষুধ সরবরাহ সহজীকরণ
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ঘিরে এমন সম্ভাব্য অগ্রগতির খবর আন্তর্জাতিক বাজার ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সত্যিই জব্দ সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়ে থাকে, তবে তা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা প্রশমনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছেন, এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ফলে বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার আগে একে কূটনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।
বর্তমান পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ
| বিষয় |
তথ্য |
| আলোচনার পক্ষ |
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান |
| প্রধান ইস্যু |
জব্দ ইরানি সম্পদ মুক্তি |
| মাধ্যম |
আল-জাজিরা ও কূটনৈতিক সূত্র |
| যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান |
আনুষ্ঠানিক মন্তব্য নেই / পূর্বে অস্বীকৃতি |
| ইরানের শর্ত |
১০ দফা প্রস্তাবের অংশ হিসেবে সম্পদ ফেরত |
| আলোচনার স্থান |
ইসলামাবাদ (সম্ভাব্য পূর্ব প্রস্তুতি) |
বিশ্লেষকদের মতামত
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আলোচনা সাধারণত ধাপে ধাপে অগ্রসর হয় এবং প্রাথমিক তথ্য অনেক সময় আনুষ্ঠানিক চুক্তির আগেই ফাঁস হয় বা ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে অতীতেও এমন বহুবার ভিন্ন ভিন্ন দাবি ও অস্বীকৃতির ঘটনা ঘটেছে।
তাদের মতে, যদি বাস্তবে সম্পদ ছাড়ের কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, তবে তা শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
সামগ্রিক চিত্র
সব মিলিয়ে, ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি সংক্রান্ত আল-জাজিরার দাবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না থাকায় বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে।
পরবর্তী কূটনৈতিক ঘোষণা ও আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে এই অগ্রগতি বাস্তবে রূপ নেবে কি না।