রাজধানীর জ্বালানি তেল বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে কিউআর কোডভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ ‘ফুয়েল পাস’-এর ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আজ রবিবার থেকে ঢাকা মহানগরীর সাতটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এই অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের উদ্যোগে চালু হওয়া এই ডিজিটাল ব্যবস্থা ধাপে ধাপে সারাদেশে বিস্তৃত করা হবে। প্রাথমিকভাবে সীমিত পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের পর গত কয়েকদিনে আরও কয়েকটি স্টেশন যুক্ত হওয়ায় এখন মোট সাতটি পাম্পে এই সেবা কার্যকর রয়েছে।
রাজধানীর যে সাত পাম্পে চালু
নিচের টেবিলে বর্তমানে চালু থাকা ফিলিং স্টেশনগুলোর তালিকা দেওয়া হলো—
| ক্রমিক |
ফিলিং স্টেশনের নাম |
এলাকা |
| ১ |
ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন |
তেজগাঁও |
| ২ |
সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন |
আসাদগেট |
| ৩ |
তালুকদার ফিলিং স্টেশন |
আসাদগেট |
| ৪ |
গুলশান সার্ভিস স্টেশন |
মহাখালী |
| ৫ |
মেঘনা মডেল পাম্প |
শাহবাগ |
| ৬ |
নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার |
নিকুঞ্জ |
| ৭ |
খালেক সার্ভিস স্টেশন |
কল্যাণপুর |
এই সাতটি স্টেশনে এখন থেকে মোটরসাইকেল চালকদের কেবলমাত্র ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ ব্যবহার করেই পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহ করতে হবে। পর্যায়ক্রমে এই ব্যবস্থা অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও চালু করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
কেন এই উদ্যোগ
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় মানবনির্ভর প্রক্রিয়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অনেক সময় পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ থাকা সত্ত্বেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এতে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। এর ফলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এসব সমস্যা সমাধানে ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য
নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি গ্রাহকের তথ্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। গ্রাহকরা নির্ধারিত সীমার মধ্যে জ্বালানি পাবেন এবং সেটি কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে সরাসরি যাচাই করা হবে।
যাদের স্মার্টফোন নেই, তারা অনলাইনে নিবন্ধন করে কিউআর কোড ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে ব্যবহার করতে পারবেন। ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ ডিজিটালভাবে তথ্য যাচাই করার পরই জ্বালানি বিতরণ করতে পারবে।
জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা
কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সারাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে অনিয়ম, অপচয় এবং অপ্রয়োজনীয় মজুদ প্রতিরোধ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া সংকটকালীন সময়ে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।
নিবন্ধন প্রক্রিয়া
এই সেবা গ্রহণ করতে গ্রাহকদের মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের সময় মোবাইল নম্বর যাচাই, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র, গাড়ির কাগজপত্র এবং পাসপোর্ট সাইজ ছবি জমা দিতে হবে।
সব মিলিয়ে এই উদ্যোগ রাজধানীর জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।