খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ১৫ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নীলফামারীতে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও এক কিশোর গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নীলফামারী–সৈয়দপুর মহাসড়কের পূর্ব সূটিপাড়া জামতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন নীলফামারী সদর উপজেলার পশ্চিম কুচিয়ারমোড় গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছেলে সিহাব হোসেন (১৯) এবং তার ছোট ভাই মো. সোয়াদ (৬)। আহত কিশোর মো. হোসেন (১০) একই গ্রামের স্টালিন ইসলামের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনজনই দারোয়ানী টেক্সটাইল এলাকার বাজার থেকে কাজ বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে গিয়েছিলেন এবং রাতে একসঙ্গে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা যখন মহাসড়কের নির্জন অংশ অতিক্রম করছিলেন, তখন সৈয়দপুর দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক পেছন দিক থেকে তাদের চাপা দেয়। ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই দুই ভাই গুরুতরভাবে পিষ্ট হন এবং তাদের মৃত্যু হয়। আহত কিশোরকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। তবে দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকচালক গাড়ি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করে।
| নাম | বয়স | সম্পর্ক | অবস্থা | চিকিৎসা/পরিস্থিতি |
|---|---|---|---|---|
| সিহাব হোসেন | ১৯ বছর | বড় ভাই | নিহত | ঘটনাস্থলেই মৃত্যু |
| মো. সোয়াদ | ৬ বছর | ছোট ভাই | নিহত | ঘটনাস্থলেই মৃত্যু |
| মো. হোসেন | ১০ বছর | একই এলাকার কিশোর | আহত | হাসপাতালে চিকিৎসাধীন |
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি শনাক্ত ও চালককে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি ও অসতর্ক চালনার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। মরদেহগুলো আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের ওই অংশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই এবং রাতে ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ প্রায়ই করা হয় না। ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। তারা দ্রুত সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, গতি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও বিরাজ করছে। একই পরিবারের দুই সন্তানের এমন মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষী চালকের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।