খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বজুড়ে বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে শরীরের বাইরে ডিম্বাণু নিষেকভিত্তিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাও দ্রুত বাড়ছে। তবে এই চিকিৎসা পদ্ধতির উচ্চ ব্যয় অনেক দম্পতির জন্য বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চিকিৎসাকে স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনা গেলে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং চিকিৎসা সম্পন্ন করার হারও উন্নত হবে।
শরীরের বাইরে ডিম্বাণু নিষেকভিত্তিক চিকিৎসা একটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হওয়া জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়া। প্রথম ধাপে ডিম্বাশয়কে ওষুধের মাধ্যমে উদ্দীপিত করা হয়। এরপর ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তী ধাপে পরীক্ষাগারে ডিম্বাণুর সঙ্গে শুক্রাণুর মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। সবশেষে নির্দিষ্ট সময়ে সেই ভ্রূণ জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। একটি পূর্ণ চিকিৎসা চক্র সাধারণত দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হয়। তবে সফলতার সম্ভাবনা বাড়াতে অনেক ক্ষেত্রে একাধিক চক্র প্রয়োজন হয়।
চিকিৎসা সফলতার হার বয়সের ওপর নির্ভরশীল। পঁয়ত্রিশ বছরের নিচে নারীদের ক্ষেত্রে প্রতি চক্রে সফলতার হার প্রায় পঞ্চাশ থেকে পঞ্চান্ন শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। আটত্রিশ থেকে চল্লিশ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে এই হার কমে প্রায় বিশ থেকে ত্রিশ শতাংশে নেমে আসে। বয়স আরও বাড়লে সফলতার হার আরও কমে যায়।
তবে এই চিকিৎসার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ব্যয়। যুক্তরাষ্ট্রে একটি চক্রের ব্যয় প্রায় বারো হাজার থেকে ত্রিশ হাজার মার্কিন মুদ্রা পর্যন্ত হতে পারে। ওষুধ ও অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয় যুক্ত হলে মোট খরচ আরও বৃদ্ধি পায়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে খরচ তুলনামূলকভাবে কম হলেও তা কয়েক হাজার ইউরোর নিচে সাধারণত থাকে না। ফলে অনেক দম্পতি আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে চিকিৎসা শুরু করলেও শেষ করতে পারেন না।
নিম্নের সারণিতে বিভিন্ন অঞ্চলে এই চিকিৎসার বীমা কাভারেজ পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো—
| অঞ্চল | বীমা কাভারেজের অবস্থা | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশ | আংশিক বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা | নির্দিষ্ট চিকিৎসা চক্র ও ব্যয়ের সীমা নির্ধারিত |
| ইউরোপের বিভিন্ন দেশ | আংশিক বা পূর্ণ সরকারি সহায়তা | শর্তসাপেক্ষে একাধিক চক্রের সুবিধা |
| নেদারল্যান্ডস | নির্দিষ্ট শর্তে তিনটি পর্যন্ত চক্র | সরকারি স্বাস্থ্যসেবার অন্তর্ভুক্ত |
| বাংলাদেশ | সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ব্যয়ে পরিচালিত | বীমা কাভারেজ অনুপস্থিত |
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা ব্যয় এখনো এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা। অনেক দম্পতি চিকিৎসা শুরু করলেও আর্থিক চাপের কারণে মাঝপথে থেমে যেতে বাধ্য হন। যেসব দেশে বীমা কাভারেজ চালু রয়েছে, সেখানে রোগীরা তুলনামূলকভাবে বেশি চিকিৎসা সম্পন্ন করতে সক্ষম হন এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়া ধারাবাহিক থাকে।
বাংলাদেশে এই চিকিৎসা মূলত বেসরকারি পর্যায়ে সীমিত এবং সম্পূর্ণ ব্যয় রোগীকেই বহন করতে হয়। এখন পর্যন্ত কোনো স্বাস্থ্যবীমা কাঠামোয় এই চিকিৎসাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বীমা খাতে নতুন পণ্য উদ্ভাবনের ঘাটতি এবং স্বাস্থ্যবীমার সীমিত বিস্তার এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে এই চিকিৎসা বীমার আওতায় এলে তা রোগীদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে এবং একই সঙ্গে বীমা খাতের পরিসরও বৃদ্ধি পাবে। সচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে করপোরেট পর্যায়ে কর্মীদের জন্য এ ধরনের চিকিৎসা সুবিধা যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
ফলে শরীরের বাইরে ডিম্বাণু নিষেকভিত্তিক চিকিৎসার বীমা সম্প্রসারণ শুধু চিকিৎসা সহজলভ্য করার বিষয় নয়, বরং বহু দম্পতির পরিবার গঠনের দীর্ঘ প্রতীক্ষাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।