খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
মালয়েশিয়ায় ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে নজরুল ইসলাম (৪০) নামের এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এবং তার সঙ্গে থাকা বাংলাদেশি নারী কোহিনুর বেগমকে নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দু’জনকে হত্যা করার পর নজরুল ইসলামের মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে ফেলে।
নিহত নজরুল ইসলাম ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে। তিনি ২০১৮ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান এবং সেখানে একটি কৃষিভিত্তিক খামার গড়ে তোলেন বলে জানা গেছে। ওই খামারে তিনি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন ধরনের পশুপাখি পালন করতেন।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, ব্যবসায়িক সাফল্যই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় এক অংশীদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব চলছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই বিরোধই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
নিহতের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, নজরুল ইসলাম কয়েকবার তাকে জানিয়েছেন যে ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে তার সম্পর্ক খারাপ হয়ে গেছে এবং তার ওপর হামলার আশঙ্কাও রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দেশে ফিরে আসার জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল, তবে তিনি খামার গুছিয়ে নিয়ে ফিরে আসার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
জহিরুল ইসলাম আরও বলেন, “আমরা বারবার বলেছিলাম সব ছেড়ে দেশে চলে আসতে, কিন্তু সে বলেছিল কিছুদিন পর সব গুছিয়ে আসবে। এখন ভাইকে এভাবে হারাতে হবে, তা আমরা মেনে নিতে পারছি না।”
নিহতের ভাগ্নি সাদিয়া ইসলাম মীম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, মামা তাকে জানিয়েছিলেন তিনি সব সম্পদ বিক্রি করে দ্রুত দেশে ফিরবেন এবং পরিবারের জন্য উপহার আনবেন। সেই কথাগুলো এখনো তার কানে বাজছে বলে তিনি জানান। তিনি হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
| নাম | বয়স (প্রায়) | পরিচয় | স্থান |
|---|---|---|---|
| নজরুল ইসলাম | ৪০ | বাংলাদেশি ব্যবসায়ী | কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ |
| কোহিনুর বেগম | অনির্দিষ্ট | বাংলাদেশি নারী (সঙ্গী) | মালয়েশিয়া |
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় খামার ব্যবসা পরিচালনার সময় নজরুল ইসলামের সঙ্গে স্থানীয় এক ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধ ধীরে ধীরে তীব্র আকার ধারণ করে এবং একাধিকবার হুমকি ও হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিবারের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে নজরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় এবং ঘটনাটি অত্যন্ত নির্মমভাবে সংঘটিত হয়েছে, যেখানে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।
এই ঘটনার পর প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় জড়িত প্রবাসীরা বিদেশে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, চুক্তিগত অনিশ্চয়তা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
প্রবাসী শ্রম ও ব্যবসা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে বিনিয়োগ ও খামারভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন, অংশীদার নির্বাচন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, ঘটনাটি বিদেশে সংঘটিত হওয়ায় স্থানীয়ভাবে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ সীমিত। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ দূতাবাস এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
নজরুল ইসলাম ও কোহিনুর বেগমের হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পরিবার দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
এই ঘটনায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়, আর প্রবাসী সমাজে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি।