খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) এলাকায় ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর আহত এক ছাত্রনেতাকে পুলিশের উপস্থিতিতেই ছিনিয়ে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) কোতোয়ালি থানার বাঘমারা ছাত্রাবাসের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে তা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনায় আহত আমানুল্লাহ মুয়াজ জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি মমেকের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত। সংঘর্ষে একই বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রদল নেতা নাফিউল ইসলামকে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুয়াজকে হেফাজতে নেয়। চারজন পুলিশ সদস্য তাকে বাঘমারা ছাত্রাবাস থেকে মূল ফটকের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, যাদের মধ্যে দুইজন ইউনিফর্ম পরিহিত এবং দুইজন সাদা পোশাকে ছিলেন।
ঠিক তখনই হঠাৎ করে একই পক্ষের নাফিউল ইসলাম সেখানে উপস্থিত হয়ে পুলিশের কাছ থেকে মুয়াজকে ছিনিয়ে নেন। এরপরই রাস্তার ওপর ফেলে তাকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তিনি হামলা চালান এবং মুয়াজ গুরুতর আহত হন।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, হামলার পর রাস্তা রক্তে ভিজে যায় এবং ঘটনাস্থলে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও তারা কার্যকরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা | ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ |
| স্থান | বাঘমারা ছাত্রাবাস, মমেক, ময়মনসিংহ |
| তারিখ | ১৭ এপ্রিল (শুক্রবার) |
| আহত | আমানুল্লাহ মুয়াজ |
| হামলাকারী | নাফিউল ইসলাম |
| অস্ত্র | হাতুড়ি |
| অবস্থান | জাতীয় নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল |
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত দুইজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তবে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আটক নাফিউল ইসলামকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে মামলার বিস্তারিত এখনই জানানো সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ওসি আরও জানান, আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার পর ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ বলছে, দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে, যা এ ধরনের সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব ও সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে না আনলে এমন সহিংস ঘটনা আরও বাড়তে পারে। পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলার ঘটনা ঘটায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মমেকের এই সংঘর্ষ শুধু একটি অভ্যন্তরীণ বিরোধ নয়, বরং ক্যাম্পাস রাজনীতিতে সহিংসতার একটি ভয়াবহ চিত্র হিসেবে সামনে এসেছে। পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে হামলার এই ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।