খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবল লিগ সিরি আ-তে এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে ফ্লুমিনেন্সের মুখোমুখি হয়েছিল সান্তোস। ম্যাচের পরতে পরতে উত্তেজনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত হারের তিক্ত স্বাদ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে সান্তোসকে। দলের অধিনায়ক হিসেবে নেইমার জুনিয়র আক্রমণভাগে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেও এবং একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। এই পরাজয়ের পর গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকদের তোপের মুখে পড়েন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সান্তোস শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করে। দলের তারকা ফরোয়ার্ড গাব্রিয়েল বারবোসা ও নেইমারের রসায়ন দর্শকদের নজর কাড়ে। সান্তোস ম্যাচে দুইবার লিড নিলেও রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ফ্লুমিনেন্স বারবার সমতায় ফেরে। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ফ্লুমিনেন্স পূর্ণ পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়।
ম্যাচের মূল পরিসংখ্যানগুলো নিচে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| প্রতিযোগিতা | ব্রাজিলিয়ান সিরি আ |
| ম্যাচ | সান্তোস বনাম ফ্লুমিনেন্স |
| ফলাফল | ফ্লুমিনেন্স জয়ী |
| সান্তোসের অধিনায়ক | নেইমার জুনিয়র |
| নির্ণায়ক গোল | ৮৬তম মিনিট |
| মূল পারফর্মার (সান্তোস) | গাব্রিয়েল বারবোসা (১টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট) |
খেলার প্রথমার্ধে সান্তোস তাদের স্বাভাবিক ছন্দে ছিল। নেইমারের সুনিপুণ পাসিং এবং গাব্রিয়েল বারবোসার ক্ষিপ্রতা ফ্লুমিনেন্সের রক্ষণভাগকে তটস্থ করে রাখে। গাব্রিয়েল বারবোসা দলের প্রথম গোলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং সতীর্থকে দিয়ে একটি গোল করান। পরবর্তীতে তিনি নিজেই একটি দর্শনীয় গোল করে দলকে দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে দেন। তবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ভালো হলেও দলীয় সমন্বয়ের অভাবে সেই লিড ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, ফ্লুমিনেন্স কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সচেতন ছিল। প্রতিবার পিছিয়ে পড়ার পর তারা দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যায়। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে ফ্লুমিনেন্সের জয়সূচক গোলটি আসার পর সান্তোসের আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল না।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই সান্তোসের সমর্থকদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দেয়। বিশেষ করে দলের প্রধান তারকা এবং অধিনায়ক হওয়ার কারণে নেইমারের ওপর সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। পুরো ম্যাচে কঠোর পরিশ্রম করা সত্ত্বেও নেইমার নিজে কোনো গোল করতে না পারায় সমর্থকরা তাকে লক্ষ্য করে গ্যালারি থেকে ‘দুয়ো’ দিতে শুরু করেন।
ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফুটবলে সমর্থকদের এই ধরনের আচরণ বিরল নয়, তবে নিজ দলের অধিনায়কের প্রতি এমন প্রকাশ্য অসন্তোষ ফুটবল মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। নেইমার ম্যাচজুড়ে সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ের অভাব এবং দলের রক্ষণাত্মক ব্যর্থতা শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পরাজয়ের এই দায়ভার ও সমর্থকদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এখন সান্তোস শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন নেইমার ও তার দলের প্রধান লক্ষ্য।