খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার মাঝিনা লোহার গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে আপন দুই সহোদর শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলের এই ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক ও স্তব্ধতা। শিশু দুটির অকাল মৃত্যুতে পরিবারসহ স্থানীয়রা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
নিহত দুই শিশু হলো একই গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হকের বড় ছেলে হোসেন আলী (১২) এবং ছোট ছেলে রহমত আলী (১০)। হোসেন আলী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে এবং রহমত আলী চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল। খেলাধুলাপ্রিয় দুই ভাই প্রতিদিনের মতোই বিকেলে বাড়ির পাশে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় শিশুরা বাড়ির কাছেই খেলছিল। এক পর্যায়ে অসাবধানতাবশত তারা পাশের একটি পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কেউ বুঝতে না পারায় কিছু সময় তারা পানির নিচে আটকে থাকে। পরে তাদের খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে চারপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর পুকুরে দুই শিশুর নিথর দেহ ভেসে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। শিশুদের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারে শুরু হয় হৃদয়বিদারক কান্না।
খবর পেয়ে পাঁচবিবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি দুর্ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক শোকের ছায়া ফেলেছে। প্রতিবেশীরা জানান, দুই ভাই ছিল অত্যন্ত মিশুক ও খেলাধুলাপ্রিয়। তাদের এমন অকাল মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। গ্রামে এখনো শোকাহত পরিবেশ বিরাজ করছে।
নিচে নিহত দুই শিশুর পরিচয় সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| নাম | বয়স | শ্রেণি | পিতা | ঠিকানা |
|---|---|---|---|---|
| হোসেন আলী | ১২ বছর | পঞ্চম শ্রেণি | এনামুল হক | মাঝিনা লোহার গ্রাম, পাঁচবিবি |
| রহমত আলী | ১০ বছর | চতুর্থ শ্রেণি | এনামুল হক | মাঝিনা লোহার গ্রাম, পাঁচবিবি |
স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে পুকুর ও জলাশয়ের আশপাশে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে তারা মত দিয়েছেন।
দুই শিশুর অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ, যা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি স্থানীয় বাসিন্দারা।