খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি) এবং প্রতিবেশী উগান্ডায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাস পরিস্থিতিকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগজনক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আল জাজিরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাটি।
ডব্লিউএইচও-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রাদুর্ভাবটি শুরু হয়েছে পূর্ব কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশ থেকে। সেখানে ইবোলার একটি বিরল ধরন ‘বুন্ডিবুগিও’ শনাক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট কার্যকর চিকিৎসা নেই, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, ইতুরি প্রদেশে শুরু হওয়া সংক্রমণ ধীরে ধীরে প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসাতেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যা রোগটির ভৌগোলিক বিস্তারের পরিধি আরও বাড়িয়েছে। এই কারণে পুরো মধ্য আফ্রিকা অঞ্চলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ডব্লিউএইচও উল্লেখ করেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে নজরদারি, সংক্রমিত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং আইসোলেশন ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণে রাখার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
ডব্লিউএইচও আরও জানিয়েছে, যদিও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, তবে এটিকে এখনো বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। সংস্থাটির মতে, মহামারি ঘোষণার জন্য যে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারিত রয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে সংক্রমণের বিস্তার অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করা হতে পারে।
সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সীমান্ত বন্ধ না করার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ না করার পরামর্শ দিয়েছে। ডব্লিউএইচও-এর মতে, অতীতে দেখা গেছে যে সীমান্ত বন্ধ বা বাণিজ্য সীমিত করার পদক্ষেপ অনেক সময় তথ্য ও রোগী প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে, যা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না।
ইবোলা ভাইরাস সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল, যেমন রক্ত, বমি বা অন্যান্য শারীরিক নিঃসরণের মাধ্যমে দ্রুত ছড়াতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, রোগটির প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে জ্বর, দুর্বলতা, পেশীতে ব্যথা এবং পরবর্তী পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।
ডিআরসি ও উগান্ডা উভয় দেশেই স্বাস্থ্যকর্মীরা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। স্থানীয় হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে রোগী শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যাতে মানুষ রোগের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সংক্রমণ শনাক্তকরণ, পরীক্ষাগার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, যেসব এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়েছে সেখানে দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা হলে ভাইরাসটির বিস্তার সীমিত রাখা সম্ভব হতে পারে।
বর্তমানে ডব্লিউএইচও এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ করছে। সংক্রমণের ধারা এবং নতুন রোগী শনাক্তের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।