খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং উদীয়মান অপরাধ দমনে সরকারের পক্ষ থেকে আইনি সংস্কার ও নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রচলিত আইন দিয়ে ‘মব’ পুরোপুরি মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে বিদ্যমান আইন সংশোধন বা সম্পূর্ণ নতুন আইন প্রণয়ন করা হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
রোববার (১০ মে) রাজারবাগ পুলিশ মিলনায়তনে পুলিশ সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।
অনুষ্ঠানে ‘মব কালচার’ বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মব কালচারের বিরুদ্ধে সরকার পূর্বেই অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বর্তমানে প্রচলিত আইনের আওতায় যতটুকু সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এই সংকটকে আলাদাভাবে ও পুরোপুরি মোকাবিলা করতে বর্তমান আইনি কাঠামো পর্যাপ্ত নয়।
এই লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রসচিব এবং পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) বিষয়টি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মব কালচার নিয়ন্ত্রণে আইনি সংস্কার বা নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইন্টারনেটভিত্তিক অপরাধের ধরন পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুয়া ও অনলাইন জুয়া বন্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে অপরাধের কৌশলও পাল্টে গেছে, তাই পুরোনো আইন দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
অনলাইন জুয়া, সাইবার ক্রাইম এবং অবৈধ মানি ট্রান্সফার বা অর্থ পাচার রোধে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো তৈরিতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির মূল কাজগুলো নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্রমিক | কমিটির প্রধান দায়িত্ব ও পর্যালোচনার বিষয়সমূহ |
| ১ | অনলাইন জুয়া পুরোপুরি বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো নির্ধারণ করা। |
| ২ | অনলাইন জুয়া দমনে নতুন ও কার্যকর আইন প্রণয়নের রূপরেখা তৈরি। |
| ৩ | সাইবার ক্রাইম (Cyber Crime) বা সাইবার অপরাধের বিষয়গুলো একই আইনের আওতায় আনা। |
| ৪ | অবৈধ মানি ট্রান্সফার বা অর্থ লেনদেন-সংশ্লিষ্ট অপরাধসমূহ এই আইনের অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা। |
| ৫ | প্রয়োজন সাপেক্ষে অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা ও আইনি মডেল গ্রহণ করা। |
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কমিটির প্রস্তুত করা আইনের খসড়াটি হাতে এলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত অংশীজনদের সাথে আলোচনা করা হবে।
পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, আধুনিক ও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সরকার একটি নতুন নীতিমালার কথা ভাবছে। অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতা প্রদানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ও পরিধি নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
আওতাভুক্ত পদমর্যাদা: পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) থেকে শুরু করে কনস্টেবল পদ পর্যন্ত সদস্যদের এই ভাতার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
মূল উদ্দেশ্য: অতিরিক্ত কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এই ভাতা প্রদানের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি এবং জনগণের প্রতি সেবার মান নিশ্চিত করা।
দেশের সার্বিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, বিগত ২ মাসে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান ও ইতিবাচক উন্নতি হয়েছে। এই ধারা বজায় রাখতে এবং পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।