খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
দীর্ঘ বিরতির পর মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ বিশিষ্ট এই সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। হোম অব ক্রিকেটে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে স্বাগতিক বাংলাদেশ দল দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিলেও, পরবর্তী সময়ে দ্রুত তিন টপ অর্ডার ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম, লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্তর আকস্মিক বিদায়ে এক গভীর ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইনিংসের ২৮ ওভার শেষে বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান সংগ্রহ করেছে।
প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিক দল। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার সাইফ হাসান বিদায় নেন। অজি পেসার নাথান এলিসের করা প্রথম বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে পেয়ে চার মেরে চমৎকার সূচনা করেছিলেন সাইফ। তবে ঠিক তার পরের বলটি কিছুটা ভেতরের দিকে চলে আসে এবং সাইফ সেটি রক্ষণাত্মকভাবে খেলার চেষ্টা করলেও টাইমিং ঠিকঠাক করতে পারেননি। বলটি ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে দ্বিতীয় স্লিপে থাকা ফিল্ডার মার্নাস লাবুশেনের হাতে জমা হয়। ফলে ৫ বলে ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন সাইফ।
সাইফের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনিও এলিসের মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলে চার মারেন এবং পরের বলেই দ্বিতীয় স্লিপে মার্নাস লাবুশেনকে ক্যাচ দেন। তবে এবার লাবুশেনের হাত থেকে বল ফসকে গেলে শান্ত নতুন জীবন পান। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অপর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও শান্ত মিলে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তারা দুজন দ্বিতীয় উইকেটে ৯১টি বল মোকাবেলা করে ৯৬ রানের একটি শক্তিশালী ও কার্যকরী জুটি উপহার দেন। এই দুই ব্যাটারের দৃঢ়তাতেই বাংলাদেশ দল দলীয় শত রানের কোটা অতিক্রম করে।
সাদা বলের ক্রিকেটে চমৎকার ফর্মে থাকা ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম আজও নিজের প্রতিভার পরিচয় দেন। তিনি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং প্রদর্শন করে মাত্র ৪১টি বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তবে পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর তিনি নিজের ইনিংসটিকে বেশি দূর টেনে নিতে পারেননি। নাথান এলিসের একটি নিখুঁত ও গতি পরিবর্তিত ধীরগতির বলে শট খেলতে গিয়ে মিড অফে থাকা ফিল্ডার জেভিয়ার বার্টলেটের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। আউট হওয়ার পূর্বে তানজিদ ৪৪টি বল খেলে ৭টি চার এবং ১টি ছক্কার সাহায্যে ৫৪ রান সংগ্রহ করেন।
তানজিদ হাসানের বিদায়ের পর খেলার ছন্দপতন ঘটে। ক্রিজে আসেন ফর্মে থাকা লিটন দাস, কিন্তু তিনি দলের হাল ধরতে ব্যর্থ হন এবং বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। লিটনের দ্রুত বিদায়ের পর উইকেটে থিতু হওয়া ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্তও সাজঘরে ফিরে যান। এর ফলে ভালো অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের টপ অর্ডার মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ে এবং স্বাগতিক দল চাপের মুখে পড়ে।
ম্যাচের ২৮ ওভার পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাটিং পারফরম্যান্সের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান নিচে ছকের সাহায্যে তুলে ধরা হলো:
ইনিংসের শুরুতে সাইফ হাসানের বিদায়ের পর শান্ত ও তানজিদের প্রতিরোধ বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। কিন্তু মধ্যভাগের ওভারগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও নিয়মিত বিরতিতে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট পতনের কারণে স্বাগতিক দল এখন বেশ কোণঠাসা। তানজিদ হাসানের ৫৪ রান এবং শান্তর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পর ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশ দল এখন বড় সংগ্রহের লক্ষ্যে নিজেদের ইনিংস পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে।