খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে নিজ মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা এবং পরবর্তীতে লাশ গুম করার এক নৃশংস ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। বাড়ির সীমানায় টয়লেটের গর্ত করাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে বড় ছেলের পক্ষ নেওয়ায় মারিয়া বেগম ওরফে শরিফা (৭৫) নামের ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করেন তার মেজো ছেলে জনাব আলী (৫৫)। পরবর্তীতে এই হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর লাশটি বস্তাবন্দি করে পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। এই অপরাধে পুলিশ মেজো ছেলে জনাব আলী এবং লাশ গুম করায় সহায়তাকারী তার ছেলে আল আমিনকে (২৫) গ্রেফতার করেছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ মে শনিবার নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের আগপাড়া শেরকোল গ্রামে বাড়ির সীমানায় টয়লেটের একটি গর্ত খনন করা নিয়ে বড় ভাই শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মেজো ভাই জনাব আলীর কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় মা মারিয়া বেগম যৌক্তিক কারণে বড় ছেলে শহিদুলের পক্ষ নেন। মেজো ছেলে জনাব আলী বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেননি এবং মায়ের ওপর ক্ষুব্ধ হন। এই ক্ষোভের জেরে গত ২৫ মে রাত ৯টায় জনাব আলী তার মাকে গলাটিপে হত্যা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধ আড়াল করতে জনাব আলী মায়ের মরদেহটি নবনির্মিত টয়লেটের গর্তেই ফেলে দেন এবং ওপর থেকে স্লাব দিয়ে ঢেকে রাখেন। এর ১০ দিন পর (৪ জুন) লাশটি পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে, গভীর রাতে জনাব আলী তার ছেলে আল আমিনের সহযোগিতায় মরদেহটি বস্তাবন্দি করেন। এরপর বাড়ির পাশের একটি কচুরিপানার ডোবায় তা ফেলে দেওয়া হয়।
বৃদ্ধা মারিয়া বেগম নিখোঁজ হওয়ার পর গত ৬ জুন তার মেয়ে মর্জিনা বেগম সিংড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এই জিডির সূত্র ধরে তদন্তে নেমে পুলিশ গত ৯ জুন (নিখোঁজের ১৫ দিন পর) জনাব আলীর বাড়ির পাশের ডোবা থেকে বৃদ্ধার বস্তাবন্দি গলিত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হলে পুলিশ নিহতের চার ছেলেসহ নিকটাত্মীয়দের থানায় এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে মেজো ছেলে জনাব আলী মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী জনাব আলী একা হলেও, লাশ লুকাতে সহযোগিতার অপরাধে তার ছেলে আল আমিনকেও গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার দুপুর ২টায় সিংড়া থানা চত্বরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নাটোর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শরিফুল হক গণমাধ্যমকর্মীদের এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য জানান।
প্রেস ব্রিফিংকালে আরও উপস্থিত ছিলেন:
সিংড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর মোহাম্মদ আলী
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম
পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মেয়ে মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
| বিষয়ের বিবরণ | সংশ্লিষ্ট তথ্য ও তারিখ |
| নিহত ব্যক্তি | মারিয়া বেগম ওরফে শরিফা (৭৫) |
| প্রধান অভিযুক্ত (মেজো ছেলে) | জনাব আলী (৫৫) |
| সহযোগী অভিযুক্ত (নাতি) | আল আমিন (২৫) |
| ঘটনার স্থান | আগপাড়া শেরকোল গ্রাম, শেরকোল ইউনিয়ন, সিংড়া, নাটোর |
| বিরোধের সূত্রপাত (তারিখ) | ২৩ মে, (টয়লেটের গর্ত করা নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধ) |
| হত্যাকাণ্ডের সময় | ২৫ মে, রাত ৯:০০ টা (গলাটিপে হত্যা) |
| লাশ স্থানান্তরের তারিখ | ৪ জুন (টয়লেটের গর্ত থেকে ডোবায় স্থানান্তর) |
| নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি | ৬ জুন (বাদী: মেয়ে মর্জিনা বেগম) |
| মরদেহ উদ্ধার | ৯ জুন (বাড়ির পাশের কচুরিপানার ডোবা থেকে) |
| পুলিশের প্রেস ব্রিফিং | ১০ জুন, দুপুর ২:০০ টা (সিংড়া থানা চত্বর) |