খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
ভেনেজুয়েলায় মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে আঘাত হেনেছে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প, যার ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে এক লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির সম্ভাবনার কথা উঠে আসায় পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে ভেনেজুয়েলার ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে এলাকায়। এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২। প্রথম কম্পনের মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ধরনের শক্তিশালী ও পরপর দুটি ভূমিকম্প বড় পরিসরের মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
ইউএসজিএসের ঝুঁকি মূল্যায়ন অনুযায়ী, দ্বিতীয় ভূমিকম্পের পর ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় ৪৪ শতাংশ। একই সঙ্গে এক লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কাও প্রায় ৩০ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এসব পরিসংখ্যান সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পূর্বাভাস, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নির্ধারণে আরও সময় লাগবে।
রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবল কম্পন অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়েছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে এবং বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক স্থানে পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র এখনও পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতির অবনতির পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকদের সতর্ক অবস্থানে থাকার এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণার কথা জানান। তিনি সংকট মোকাবিলায় সামরিক ও বেসামরিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন জেনারেলকে দায়িত্ব প্রদান করেন। ভাষণে তিনি জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যেসব পরিবার তাদের স্বজনদের হারিয়েছে বা ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে, তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মাদক পাচারসংক্রান্ত অভিযোগে মার্কিন কর্তৃপক্ষ আটক করার পর থেকে ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীনভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। এই ভূমিকম্প তাঁর প্রশাসনের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মানবিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান, চিকিৎসা সহায়তা, আশ্রয় ব্যবস্থাপনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের পরিমাণ জানতে আরও সময় প্রয়োজন হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।