খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় ক্রিকেট খেলা নিয়ে সংঘটিত ঝগড়ার জের ধরে তারেক আহমদ (২৬) নামে এক যুবক ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি স্থানীয় ও জেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজনগর সদর ইউনিয়নের ঘরগাঁও গ্রামের বালিদীঘির পাড়ের দক্ষিণ পাশে কয়েকজন যুবক ক্রিকেট খেলছিলেন। খেলাধুলার মধ্যেই তারেক আহমদের সঙ্গে প্রতিবেশী আতিক আহমদ (২২) এবং তার সহযোগীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। ধাক্কাধাক্কি ও বাক্যবিবাদ দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
আতিক ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে তারেকের হাত, উরু ও পায়ে ধারাবাহিকভাবে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা অবস্থার অবনতি দেখে তাকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারেকের মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর তারেকের বড় বোন সেলিনা জান্নাত সুমা ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তে রাজনগর থানা পুলিশ সোমবার (২ মার্চ) রাতে চট্টগ্রাম জেলার খুলশী থানার মতিঝর্ণা কলোনীতে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন:
| নাম | বয়স | গ্রেপ্তারের স্থান | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| মেহেদী হাসান আতিক | ২২ | মতিঝর্ণা কলোনি, খুলশী | মূল অভিযুক্ত |
| সবুজ মিয়া | ২৬ | মতিঝর্ণা কলোনি, খুলশী | সহযোগী |
| রিয়াদ মিয়া | ২১ | মতিঝর্ণা কলোনি, খুলশী | সহযোগী |
রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া জানিয়েছেন, “৩ মার্চ দুপুরে গ্রেপ্তার তিনজনকে রাজনগর থানায় আনা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয়রা বলছেন, এমন হঠাৎ এবং নৃশংস ঘটনার ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে খেলার জায়গায় নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা বেড়ে গেছে। রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “এ ধরনের ঘটনা প্রতিহত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে।”
মৌলভীবাজারে এই হত্যাকাণ্ড একবার আবারও সতর্ক করেছে যে, দৈনন্দিন খেলাধুলার মধ্যেও ঝগড়া ও সহিংসতা কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যেই ঘটনার তদন্ত ও অপরাধীদের বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় সমাজ ও পরিবারগুলো গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।