খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় একটি কবরস্থানে অভিযান চালিয়ে একটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড গুলি এবং দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে কোনো ব্যক্তিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বুধবার উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের বাবুপুর মিরাটুলি গ্রামের একটি কবরস্থানে এ ঘটনা ঘটে। র্যাব জানায়, ওইদিন সন্ধ্যা আনুমানিক পৌনে সাতটার দিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা কবরস্থানের নির্জন অংশে একটি সন্দেহজনক ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে র্যাবকে খবর দেন। খবর পেয়ে র্যাবের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
তল্লাশির সময় কবরস্থানের পশ্চিম-দক্ষিণ কোণের দিকে একটি কাপড়ে মোড়ানো ব্যাগ পাওয়া যায়। ব্যাগটি খুলে দেখা যায় ভেতরে একটি দেশি তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড গুলি এবং দুটি ম্যাগাজিন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অস্ত্রগুলো অবৈধভাবে সংরক্ষণ বা স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
অভিযান শেষে উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় কারা জড়িত থাকতে পারে তা শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কবরস্থানটি তুলনামূলকভাবে নির্জন এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় সেখানে সাধারণ মানুষের চলাচল কম থাকে। এ কারণে দুর্বৃত্তরা এমন জায়গাকে অস্ত্র লুকানোর জন্য ব্যবহার করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ রোধে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
নিচে উদ্ধার করা সামগ্রীর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
| ক্রম | উদ্ধারকৃত সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | দেশি তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র | ১টি |
| ২ | গুলি | ১০ রাউন্ড |
| ৩ | ম্যাগাজিন | ২টি |
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার করা অস্ত্রের উৎস ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। স্থানীয় পর্যায়ে কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি স্থানীয়দের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলেও মন্তব্য করা হয়।