খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরকে সামনে রেখে ভারতীয় ক্রিকেট দলে চোটের ধাক্কা যেন থামছেই না। তারকা অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া আগেই চোটের কারণে এই দুই সফর থেকে ছিটকে যাওয়ায় দলকে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হয়েছিল। সেই শূন্যতা পূরণের জন্য নির্বাচকদের ভরসা ছিল তরুণ অলরাউন্ডার নীতীশ কুমার রেড্ডির ওপর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে যাওয়ায় সফরের আগে বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে ভারত।
জানা গেছে, বাঁ পায়ের চোট পুরোপুরি না সারায় আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড—দুই সিরিজেই খেলতে পারবেন না নীতীশ। ফলে অলরাউন্ডার বিভাগে ভারতের বিকল্প পরিকল্পনায় আবারও পরিবর্তন আনতে হতে পারে। যদিও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর ছিটকে যাওয়ার ঘোষণা দেয়নি, তবে চোটের অবস্থা বিবেচনায় তাঁর এই দুই সিরিজে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কার্যত শেষ বলেই জানা যাচ্ছে।
নীতীশের চোটের শুরু আফগানিস্তানের বিপক্ষে ধর্মশালায় অনুষ্ঠিত প্রথম একদিনের ম্যাচে। সেই ম্যাচে বোলিং করার সময় তিনি প্রথম অস্বস্তি অনুভব করেন। এরপর সতর্কতার অংশ হিসেবে লখনৌয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে তাঁকে বিশ্রামে রাখা হয়, যাতে চোট আরও না বাড়ে এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরতে পারেন।
বিশ্রামের পর চেন্নাইয়ে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে আবার মাঠে ফেরেন এই তরুণ অলরাউন্ডার। ওই ম্যাচে তিনি ছয় ওভার বল করে ৪২ রান দেন। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আবারও বাঁ পায়ে ব্যথা ও অস্বস্তি অনুভব করেন। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, আগের চোট পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। ফলে ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কর্মসূচিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এখন অন্তত এক মাস বেঙ্গালুরুতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সেন্টার অব এক্সেলেন্সে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে নীতীশকে। এই সময় তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও ফিজিওদের তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে ফিটনেস ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করবেন। পুনর্বাসন সফলভাবে শেষ হলে তবেই তাঁকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে।
ভারতের সামনে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি থাকায় এই চোট দলীয় পরিকল্পনায়ও প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী ২৬ ও ২৮ জুন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে ভারত। এরপর ১ জুলাই শুরু হবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। টি-টোয়েন্টি পর্ব শেষ হলে ১৪ জুলাই থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজ। এই দুই সফরে নীতীশের অনুপস্থিতি দলের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডারের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে, ভারতীয় দলের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ অগস্টে শ্রীলঙ্কা সফর। সেখানে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে। সেই সিরিজের আগে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে জাতীয় দলে ফিরতে পারাই এখন নীতীশ কুমার রেড্ডির প্রধান লক্ষ্য। চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ফিটনেস পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলে তিনি আবারও ভারতীয় দলে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
চোটের কারণে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে হারানো ভারতের জন্য নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। সফরের আগে দল নির্বাচনে তাই নতুন করে সমীকরণ মেলাতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে, যাতে আসন্ন আন্তর্জাতিক সূচিতে প্রতিযোগিতামূলক শক্তি ধরে রাখা সম্ভব হয়।