খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জুলাই ২০২৬, ৮:২৪ এএম
পাকিস্তানের লাহোরে দুই বিদেশি নারীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত মুহাম্মদ রাজা দার পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের আত্মীয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার লাহোর পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া চারজন হলেন মুহাম্মদ রাজা দার, হাসান রাজা, সিকান্দার খান এবং সাজিদ আলী। তাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৬৫এ ধারায় অপহরণ এবং ৩৭৫এ ধারায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দায়ের করা মামলার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে লাহোরের একটি আদালতে হাজির করা হলে বিচারক চার অভিযুক্তকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার আরেক সন্দেহভাজন এখনো পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন লাহোরে দুই বিদেশি নারীকে অপহরণের পর একটি স্থানে আটকে রেখে তাদের ওপর সংঘবদ্ধভাবে যৌন নির্যাতন চালানো হয়। ভুক্তভোগীদের একজন নেদারল্যান্ডসের এবং অন্যজন ভেনেজুয়েলার নাগরিক। ঘটনার পর তাদের একজনের বাবা স্পেন থেকে পাকিস্তান পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানান। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই নারীকে উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, ভুক্তভোগী দুই নারী ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সিঙ্গাপুরে মুহাম্মদ রাজা দারের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে ব্যবসায়িক যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা একটি ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক ব্যবসায়িক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সূত্র ধরে রাজা দার দুই নারীকে পাকিস্তানে ব্যবসায়িক সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং তাদের জন্য ব্যবসায়িক ভিসার ব্যবস্থাও করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পাকিস্তানে পৌঁছানোর পর পরিকল্পিতভাবে তাদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পাশাপাশি তাদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবির ঘটনাও ঘটে। তদন্তকারীরা অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছেন এবং ঘটনার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র জড়িত ছিল কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে।
আদালত-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে দুই ভুক্তভোগী নারী প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে মুহাম্মদ রাজা দারকে শনাক্ত করেন। এই শনাক্তকরণকে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ এতে দেশের একজন শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ফলে তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বা পক্ষপাত যাতে না আসে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পাকিস্তানে নারী ও বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে অতীতেও উদ্বেগের ঘটনা সামনে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারবার ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে। লাহোরের এই ঘটনাও নতুন করে সেই নিরাপত্তা ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি, ফরেনসিক আলামত এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য