খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জুলাই ২০২৬, ১১:১৯ এএম
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ও নজরদারি এড়িয়ে হাতকড়াসহ সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন ফরিদ হোসেন (২৮) নামের এক আসামি। গতকাল শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে ফাঁড়ির ভেতরেই এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
পলাতক আসামি ফরিদ হোসেন কোটচাঁদপুর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত (গ্রেপ্তারি পরোয়ানা) আসামি ছিলেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তাকে সম্প্রতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
পুলিশি সূত্র থেকে জানা যায়, শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল কুদ্দুস ফোর্স নিয়ে ভোমরাডাঙ্গা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালীন স্থানীয় বাজারের পাশে অবস্থিত একটি স্কুলের পেছনের অংশ থেকে ফরিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর নিয়ম অনুযায়ী তার হাতে হাতকড়া পরানো হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়। ফাঁড়ির একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু রাতের কোনো এক সুবিধাজনক সময়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি হাতকড়াসহ ফাঁড়ি সীমানা থেকে উধাও হয়ে যান। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ফাঁড়ির ভেতরে কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম অস্বস্তি ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠার পর এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এএসআই আব্দুল কুদ্দুসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার কোনো বক্তব্য না পাওয়ায় ফাঁড়ির ঠিক কোন জায়গা থেকে এবং কার দায়িত্বে শিথিলতার কারণে এই পলায়নের ঘটনা ঘটল, তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি।
তবে কোটচাঁদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনসারুল্লাহ হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ফরিদ হোসেন নামের এক আসামি সাবদারপুর ফাঁড়ি থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছেন বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। তবে ওই ব্যক্তি ঠিক কোন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন, নথিপত্র যাচাই না করে তা এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।
বর্তমানে পলাতক ফরিদ হোসেনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। কোটচাঁদপুর ও এর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশের হেফাজত থেকে এভাবে আসামি পালিয়ে যাওয়ার পেছনে কারও ব্যক্তিগত গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এই ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
মন্তব্য