খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জুলাই ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যৌথবাহিনীর সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযানে আরও এক বড় সাফল্য এসেছে। জেলার থানচি উপজেলার অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্রসহ সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) এক সক্রিয় সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকালের দিকে থানচির শেরকরপাড়া এলাকায় এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
আটককৃত কেএনএফ সদস্যের নাম যৌথান বম (৫২)। তিনি থানচি সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শেরকরপাড়া গ্রামের লালপিয়ান বমের ছেলে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথবাহিনীর একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় ঘেরাও করে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। আটকের পর তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ব্যবহারের জন্য রাখা একটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেন অভিযানের দায়িত্বে থাকা সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, থানচির সীমান্তঘেঁষা দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে কেএনএফ সদস্যদের উপস্থিতির নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার পর গত তিন দিন ধরে ওই এলাকায় একটি বড় ধরনের কম্বিং অপারেশন বা চিরুনি অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী। পাহাড়ি খাদ, জঙ্গল ও ঝিরিপথ পেরিয়ে এই তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের ধারাবাহিকতায় শেরকরপাড়া থেকে জৌথান বমকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও বাকিরা গহীন জঙ্গলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুরের দিকে তাকে স্থানীয় থানচি থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনী থানচির দুর্গম এলাকা থেকে অস্ত্রসহ কেএনএফের ওই সদস্যকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে এবং অবৈধ সশস্ত্র তৎপরতা চালানোর দায়ে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
পাহাড়ে গত কয়েক বছর ধরে সশস্ত্র তৎপরতা, ব্যাংক ডাকাতি ও সরকারি স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে আসছে কেএনএফ। এই প্রেক্ষাপটে রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বম সম্প্রদায়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে যৌথবাহিনীর এই বিশেষ অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
মন্তব্য