খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে কঠিন এক পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে ইংল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৬টায় ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই মাঠের বাইরের নানা কারণে চাপে পড়েছে হ্যারি কেইনের দল। ইতিহাস, বৈরী পরিবেশ, উচ্চতাজনিত শারীরিক চ্যালেঞ্জ এবং স্বাগতিক সমর্থকদের আচরণ—সব মিলিয়ে কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি টমাস টুখেলের শিষ্যরা।
ইংল্যান্ডের জন্য আসতেকা স্টেডিয়ামের স্মৃতি খুব একটা সুখকর নয়। চার দশক আগে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এই মাঠেই আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের শিকার হয়ে বিদায় নিতে হয়েছিল ইংলিশদের। সেই ম্যাচটি এখনও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি। ফলে একই ভেন্যুতে আবারও গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচ খেলতে নামছে ইংল্যান্ড।
শুধু ইতিহাসই নয়, আসতেকার ভৌগোলিক অবস্থানও সফরকারী দলগুলোর জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার মিটার উঁচুতে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ তুলনামূলক কম। ফলে খেলোয়াড়দের দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইস, জুড বেলিংহামসহ পুরো দলকেই ম্যাচজুড়ে শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে বাড়তি লড়াই করতে হবে।
স্বাগতিক মেক্সিকোর ঘরের মাঠের পরিসংখ্যানও তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিচ্ছে। আসতেকা স্টেডিয়ামে এখন পর্যন্ত ৮৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে মাত্র দুটি ম্যাচে হেরেছে মেক্সিকো। বিশ্বকাপের আসরেও এই মাঠে তাদের রেকর্ড ঈর্ষণীয়। এখানকার পরিবেশ, আবহাওয়া এবং দর্শকদের সমর্থন সবসময়ই দলটির জন্য বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
ম্যাচের আগের রাতে ইংল্যান্ডের জন্য আরেকটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইংল্যান্ড দলের টিম হোটেলের সামনে গভীর রাতে জড়ো হন কয়েকশ মেক্সিকান সমর্থক। তারা আতশবাজি ফাটানো এবং ঐতিহ্যবাহী মারিয়াচি সঙ্গীত বাজিয়ে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করতে থাকেন। উদ্দেশ্য ছিল ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটানো, যাতে ম্যাচের আগে তারা পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে না পারেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা এই কোলাহলে হোটেল এলাকার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমর্থকদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয় এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনে।
বিশ্ব ফুটবলে বড় ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ দলের হোটেলের সামনে সমর্থকদের এমন উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করার ঘটনা নতুন নয়। বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এমন কৌশল দেখা গেলেও, এবার তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ইংল্যান্ড-মেক্সিকো কোয়ার্টার ফাইনালকে ঘিরে।
তবে এসব ঘটনার মধ্যেও নিজেদের লক্ষ্য থেকে সরে যেতে রাজি নয় ইংল্যান্ড। কোচ টমাস টুখেল এবং অধিনায়ক হ্যারি কেইনের নেতৃত্বে দলটি মাঠের পারফরম্যান্সেই সব প্রশ্নের জবাব দিতে চায়। অন্যদিকে স্বাগতিক মেক্সিকো ঘরের মাঠ, দর্শকদের সমর্থন এবং দুর্দান্ত রেকর্ডকে কাজে লাগিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার স্বপ্ন দেখছে।
সব মিলিয়ে আসতেকা স্টেডিয়ামে শুধু দুই দলের ফুটবল লড়াই নয়, মানসিক দৃঢ়তা, পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং চাপ সামাল দেওয়ার পরীক্ষাও অপেক্ষা করছে। এই কারণেই ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালটি বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।