খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণ মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪১ জনে।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল রোববার সকাল আটটা থেকে আজ সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে এই তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ঢাকা বিভাগের, একজন রাজশাহী বিভাগের এবং একজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬৪৮ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৩ শিশু। দুই ধরনের মৃত্যুর হিসাব একত্র করলে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪১।
সংক্রমণের দিক থেকেও পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আরও ৯৪৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৫৬৫।
একই সময়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া নতুন হামের রোগীর সংখ্যা ১৫৯। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১২ হাজার ৭৯১ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের একটি অংশের সংক্রমণ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হচ্ছে, যদিও অনেক ক্ষেত্রেই উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বেশ বড়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৯ হাজার ৭৩৪ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮৬ হাজার ৬২ জন। ফলে এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। তাদের মতে, হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং শিশুদের ক্ষেত্রে এটি নিউমোনিয়া, অপুষ্টিজনিত জটিলতা, ডায়রিয়া কিংবা মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশজুড়ে রোগী শনাক্ত, চিকিৎসা ও নজরদারি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের শিশুদের মধ্যে জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি কিংবা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে হামের জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
মন্তব্য