খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই জুলাই ২০২৬, ৬:৬ এএম
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে চরম বৈষম্যমূলক ও বিতর্কিত রেফারিংয়ের শিকার হয়েছে মিশর— এমন গুরুতর দাবি তুলে এবার বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফার (FIFA) দ্বারস্থ হয়েছে তারা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে জয়ের খুব কাছে গিয়েও রেফারিংয়ের বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্তের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হয় মিশরকে। তবে এই পরাজয়কে স্রেফ খেলার অংশ হিসেবে মেনে নিতে নারাজ উত্তর আফ্রিকার দেশটি। ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিং বা কারচুপির আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে মিশরীয় ফুটবল ফেডারেশন (EFA)।
ম্যাচের পুরোটা সময় দুর্দান্ত আধিপত্য বজায় রেখে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট যখন ফারাওদের হাতের মুঠোয়, ঠিক তখনই শুরু হয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য ও নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। শেষ মুহূর্তের ঝোড়ো আক্রমণে ৩-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে শেষ আট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা। তবে আর্জেন্টিনার এই প্রত্যাবর্তনের চেয়েও এখন ফুটবল বিশ্বে বড় আলোচনা তৈরি করেছে ম্যাচের শেষভাগের রেফারিং। মিশরের দাবি, রেফারির সুনির্দিষ্ট কিছু একপেশে সিদ্ধান্তই তাদের নিশ্চিত জয় কেড়ে নিয়েছে।
ম্যাচ শেষ হতেই মাঠের উত্তেজনা গড়ায় ফিফার দপ্তরে। মিশর ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হানি আবু রিদা প্রধান রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ে ও তার সহকারীদের ম্যাচ পরিচালনার খতিয়ান তুলে ধরে ফিফার কাছে একটি কঠোর লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এই অভিযোগে প্রধানত দুটি বিষয়কে সামনে আনা হয়েছে— প্রথমত, মিশরের একটি বৈধ গোল বাতিল করা এবং দ্বিতীয়ত, পেনাল্টি বক্সে ফাউল হওয়া সত্ত্বেও স্পষ্ট পেনাল্টির দাবি নাকচ করে দেওয়া। মিশরীয় ফেডারেশনের স্পষ্ট বক্তব্য, ফরাসি রেফারি ও তার দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিশরের বিদায়ঘণ্টা বাজাতে মাঠে ভূমিকা রেখেছেন।
মিশরের যে গোলটি বাতিল করা হয়েছিল, সেটি করেছিলেন দলের তারকা মিডফিল্ডার মোস্তফা জিকো। ম্যাচ শেষেই তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে রেফারির চরম পক্ষপাতিত্ব নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।
তবে সবচেয়ে বড় বোমাটি ফাটিয়েছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি ফিফা ও রেফারিকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি বলেন:
“এটি স্পষ্ট ম্যাচ কারচুপি। ফিফা স্রেফ তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং লিওনেল মেসির মতো তারকাকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখার জন্য এই কাজ করেছে। টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ড ভ্যালু ধরে রাখতেই রেফারিকে দিয়ে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করা হয়েছে।”
মিশরীয় ফেডারেশন তাদের অভিযোগে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর ওপর উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছে। একই সাথে, টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা অক্ষুণ্ণ রাখতে বিতর্কিত ফরাসি রেফারি লেটেক্সিয়েকে চলতি বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্য ফিফাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।
মিশরের এই অভিযোগের পর চলতি বিশ্বকাপের রেফারিংয়ের মান নিয়ে চলমান বিতর্ক আরও উসকে গেল। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন এবং ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাও (UEFA) টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ম্যাচে রেফারিং এবং ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ফুটবল বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ মঞ্চে ম্যাচ পরিচালনার এই নিম্নমান সামগ্রিকভাবে খেলাটির স্বচ্ছতা ও ক্রীড়াসুলভ ভাবমূর্তিকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, মিশরের এই কঠোর অভিযোগের পর ফিফা কী পদক্ষেপ নেয়।
মন্তব্য