খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ৮:১৭ এএম
টঙ্গীর পাগার এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৮ জুলাই) রাতে টঙ্গীর পাগার এলাকায় দীর্ঘদিনের পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারির সৃষ্টি হলে তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহতদের মধ্যে ছিলেন গ্রিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম হাসিব (২৫), স্থানীয় বাসিন্দা আকাশ (২৫) এবং ইমরান হাসান অনিক (২৪)। নিহত হাসিব পাগার এলাকার বাসিন্দা তফিকুল ইসলামের ছেলে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পর হাসিবের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ধানমণ্ডির গ্রিন লাইফ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোররাতে তিনি মারা যান।
অন্যদিকে আহত আকাশ ও ইমরান হাসান অনিকের চিকিৎসা চলছে। তাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশের ধারণা, দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও স্থানীয় বিরোধের জের ধরেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। এ ঘটনায় পাগার এলাকার বাসিন্দা আয়াত আলীর ছেলে জোবায়ের হোসেন (৪৫)-কে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং সংঘর্ষে আরও কারা জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তুহিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হাসিবের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মৃত্যুর পর মামলার কার্যক্রম আইন অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে পূর্ব শত্রুতা বা ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে সহিংসতার ঘটনা প্রায়ই বড় ধরনের অপরাধে রূপ নেয়। এমন পরিস্থিতি এড়াতে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি, স্থানীয়ভাবে সমঝোতার উদ্যোগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সময়মতো অভিযোগ জানানো গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংঘর্ষের পেছনের পরিকল্পনা এবং প্রত্যক্ষভাবে কারা অংশ নিয়েছিল, তা উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
হাসিবের মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার অকাল মৃত্যুতে গ্রিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যেও গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
মন্তব্য