খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
টানা ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের চারটি বিভাগে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এর প্রভাবে একাধিক জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত পূর্বাভাসে জানানো হয়, আগামী তিন দিনে দেশের পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পাহাড়ি ঢল এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ মিলিয়ে কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে, যা স্থানীয়ভাবে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী তিন দিনে দ্রুত বাড়তে পারে। এর ফলে বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন স্থানে এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে এবং স্থানীয় জনজীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলোর কিছু অংশ সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিন দিন এই প্রবণতা আরও অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। নদীসংলগ্ন নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার পাশাপাশি কৃষিজমি, গ্রামীণ সড়ক ও স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে, তবে আগামী তিন দিনে এ দুটি নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সময়ে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, ফলে নদীসংলগ্ন কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণের ওপর পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতি নির্ভর করবে। তাই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সর্বশেষ পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষ, কৃষক, মৎস্যচাষি এবং নৌযান চলাচলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতেও বলা হয়েছে। ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্প সময়ের জন্য জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।