খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
দেশে কোনোভাবেই থামছে না হামের প্রকোপ। সংক্রামক এই ব্যাধির উপসর্গে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও দুটি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এই প্রাণহানির ফলে দেশে গত কয়েক মাসে হাম এবং এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে সাতশর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এই দুই শিশুর মৃত্যু হয়। সরকারি হিসাব মতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত কেবল হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬৫৪ জন শিশু। এর বাইরে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯৩ জন শিশু। সব মিলিয়ে এই সময়ে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪৭ জনে।
বিভাগীয় তথ্য বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও উপসর্গে যে দুজন মারা গেছে, তাদের একজন ঢাকা বিভাগের এবং অন্যজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা।
মৃত্যুর পাশাপাশি সারা দেশে প্রতিদিন নতুন করে শত শত শিশু এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৮১৮টি শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৯৯৮ জনে।
অন্যদিকে, সাধারণ উপসর্গের পাশাপাশি ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যাও প্রতিদিন বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২৮ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাস পাওয়া গেছে। এর ফলে দেশে এ পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ১৯৮ জনে।
আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের বিভিন্ন জটিল উপসর্গ নিয়ে দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে মোট ৯২ হাজার ৩১ জন শিশু। এর মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৮ Imageহাজার ৪১৯ জন। তবে এখনও বহু শিশু দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ যা মূলত শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। শিশুদের সঠিক সময়ে টিকা না দেওয়া এবং পুষ্টিহীনতার কারণে এই রোগের ঝুঁকি ও জটিলতা অনেক বেড়ে যায়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে ঢাকা ও সিলেটে এর প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত আইসোলেশনে রাখা এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের হামের টিকা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।