খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ৪:৬ পিএম
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার সুয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনাকবলিত একটি পিকআপভ্যান উদ্ধারের সময় বেপরোয়া গতির একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন। আজ শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে গুরুতর আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে মুষলধারে বৃষ্টির কারণে সুয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ডিমভর্তি একটি পিকআপভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঘটনার পর পিকআপের ডিমগুলো রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে এবং গাড়িটি আটকে যায়। এই অবস্থা দেখে স্থানীয় পথচারী ও আশপাশের লোকজন উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। সবাই মিলে যখন দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপভ্যানটি সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই ঘটে মূল বিপর্যয়টি।
ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাস সুয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকা অতিক্রম করার সময় উদ্ধারকাজে ব্যস্ত থাকা লোকজনকে সজোরে চাপা দেয়। বাসের গতি এতই বেপরোয়া ছিল যে, উপস্থিত সাধারণ মানুষজন সরে যাওয়ারও সুযোগ পাননি। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের নির্মম মৃত্যু হয়। এই সময় বাসের ধাক্কায় ও চাপায় আরও পাঁচজন রক্তাক্ত জেরে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত জনতা লাঠিসোটা নিয়ে সড়কে নেমে আসেন এবং মহাসড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসসহ সড়কের ওপর থাকা একাধিক যানবাহনে ভাঙচুর শুরু করেন। একপর্যায়ে উগ্র জনতা কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। ঘটনার পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সুয়াদী বাসস্ট্যান্ড রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সড়কের ওপর দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে একাধিক যানবাহন। উত্তেজিত জনতার তীব্র প্রতিরোধের মুখে প্রশাসনের কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারছিলেন না। বিক্ষুব্ধ জনতা এই সময় প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি যানবাহন ভাঙচুর করে বলে জানা গেছে। এর ফলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালান এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করেন। ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর সংবাদমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা জ্বলতে থাকা গাড়ির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বৃষ্টির কারণে সুয়াদীতে একটি ডিমের পিকআপ দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিল। স্থানীয়রা সেটি উদ্ধার করতে গেলে নড়াইল এক্সপ্রেসের একটি বাস তাদের চাপা দেয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা চরম উত্তেজিত হয়ে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ একযোগে কাজ করছে।
মন্তব্য