খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় চার্জে থাকা একটি টমটম (মিশুক) গাড়ির ব্যাটারি চুরির চেষ্টা করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শোয়েব মিয়া (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত শোয়েব মিয়া নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের নাদামপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল বাছিতের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়কের বরাক নগর এলাকায় অবস্থিত একটি অটো রাইস মিলের ভেতরে চার্জে রাখা একটি মিশুক গাড়ির ব্যাটারি চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন শোয়েব। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাটারি খুলে নেওয়ার সময় তিনি বিদ্যুতের সংস্পর্শে চলে যান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার সকালে প্রতিদিনের মতো মিশুকটি বের করতে গিয়ে চালক রাখাল চন্দ্র দাস গাড়ির পাশে এক ব্যক্তিকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কাছে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন ওই ব্যক্তি মারা গেছেন। এরপর দ্রুত নবীগঞ্জ থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে।
রাখাল চন্দ্র দাস জানান, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে তিনি মিশুকটি চার্জে রেখে রাইস মিলের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে পাশের ভাড়া বাসায় ঘুমাতে যান। সকালে ফিরে এসে গাড়ির কাছে একজনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে কাছে গিয়ে নিশ্চিত হন যে ওই ব্যক্তি মারা গেছেন। এরপর তিনি বিলম্ব না করে পুলিশকে খবর দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শোয়েব মিয়া দীর্ঘদিন ধরে টমটমের ব্যাটারিসহ বিভিন্ন ধরনের চুরির ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতেও একাধিকবার তাকে এ ধরনের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। তবে প্রতিবারই সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সতর্ক করার পরও তিনি একই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত হননি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি ঘটনাটির সব দিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো বিষয়ই তদন্তের বাইরে রাখা হচ্ছে না।
স্থানীয়দের মতে, চার্জিং অবস্থায় থাকা বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ব্যাটারির সঙ্গে অসতর্কভাবে কাজ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে ব্যাটারি খুলতে গেলে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি ও চার্জিং লাইনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। তাই এ ধরনের যন্ত্রপাতির আশপাশে কাজ করার সময় যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া প্রবেশ না করার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় নানা আলোচনা সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বলছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে সব তথ্য-প্রমাণ সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।