খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামে জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে সংঘটিত এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল এবং ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পরিস্থিতি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মহব্বতপুর গ্রামের আব্দুল হাকিম সরদার, আব্দুল গফুর, নাজিদুল সরদার, জামিউল হোসেন, আবু সাইদ, নাদিম সরদার ও নাজু বিবি। অপর পক্ষের আহতদের মধ্যে রয়েছেন মঞ্জুরুল ও বেলজান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে আরও একজন আহত হলেও তার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আব্দুল হাকিম সরদারের অভিযোগ, তিনি ২০২০ সালে মহব্বতপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফের মেয়ে নুরুন্নাহানের কাছ থেকে ৯ শতক জমি ক্রয় করেন। জমি কেনার পর থেকে তিনি সেটির দখলে ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে নুরুন্নাহানের ছোট বোন শারমিন একই জমির মালিকানা দাবি করলে বিরোধের সূত্রপাত হয়। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলে আসছে এবং এ নিয়ে আদালতেও একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে শারমিন ও তার সমর্থকেরা ওই জমির দখল নেওয়ার চেষ্টা করলে আব্দুল হাকিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করে দুই পক্ষ একে অপরের ওপর হামলা চালায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সংঘর্ষে নারী-পুরুষ মিলিয়ে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে পরে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকেরা আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এ ধরনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ গ্রামীণ এলাকায় প্রায়ই সামাজিক অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে মালিকানা, দখল বা উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় অনেক ক্ষেত্রেই পক্ষগুলো নিজেরা দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে সংঘর্ষের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিচারাধীন বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতের রায় কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়াই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ঘটনার বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তাদুল হোসেন জানান, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের চিকিৎসা চলছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এলাকায় যাতে নতুন করে কোনো উত্তেজনা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।