খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচকে সামনে রেখে বাংলাদেশ দলে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। ইনজুরির কারণে ছিটকে গেছেন বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। তার পরিবর্তে দলে ডাকা হয়েছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য স্কোয়াডে যুক্ত করা হয়েছে অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদকে, যিনি আগে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনায় জাতীয় দল থেকে ছুটি নিয়েছিলেন।
মুস্তাফিজুর রহমানের হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। এই ইনজুরির কারণে তিনি সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও খেলতে পারেননি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, তিনি তৃতীয় ওয়ানডে এবং পুরো টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকেও বাইরে থাকবেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, তিনি দেশে ফিরে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করবেন, যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে পারেন।
মুস্তাফিজের অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। প্রায় পাঁচ বছর পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে ফিরলেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। সবশেষ তিনি ২০২১ সালের জুলাইয়ে জাতীয় দলের হয়ে ওয়ানডে খেলেছিলেন। এরপর ইনজুরি ও ফিটনেস-সংক্রান্ত নানা চ্যালেঞ্জের কারণে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টি পরিকল্পনায় তার নাম ঘুরে ফিরলেও এবার ওয়ানডে দলে ডাক পাওয়া তার জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিল।
তবে হারারেতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় ওয়ানডেতে সাইফউদ্দিন চূড়ান্ত একাদশে জায়গা পাবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ম্যাচ পরিস্থিতি, উইকেটের ধরন এবং টিম কম্বিনেশনের ওপর নির্ভর করেই একাদশ নির্ধারণ করবে টিম ম্যানেজমেন্ট।
অন্যদিকে, জাতীয় দলের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত বদলেছেন তাসকিন আহমেদ। আগে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) অংশ নেওয়ার পরিকল্পনায় তিনি জিম্বাবুয়ে সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে ছুটি নিয়েছিলেন। কিন্তু মুস্তাফিজের চোটে দলের পেস আক্রমণে অভিজ্ঞতার ঘাটতি তৈরি হওয়ায় নির্বাচকদের অনুরোধে তিনি জাতীয় দলের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের বোলিং বিভাগে অভিজ্ঞতার ভারসাম্য বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইনজুরিতে থাকা আরেক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার লিটন দাসের পরিবর্তে নতুন কোনো খেলোয়াড়কে দলে নেওয়া হয়নি। অর্থাৎ টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে অতিরিক্ত পরিবর্তন আনার পথে হাঁটেনি নির্বাচক প্যানেল।
বাংলাদেশের জন্য এই সফর এখন সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। প্রথম দুই ওয়ানডেতে হেরে ইতোমধ্যেই সিরিজ হাতছাড়া করেছে দল। ফলে ১১ জুলাই হারারেতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে জয় তুলে নিয়ে সফরের ওয়ানডে অধ্যায় ইতিবাচকভাবে শেষ করাই হবে টাইগারদের লক্ষ্য।
ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পর দুই দল মুখোমুখি হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ১৫, ১৭ ও ১৯ জুলাই বুলাওয়েতে। সেই সিরিজে তাসকিনের অন্তর্ভুক্তি এবং সাইফউদ্দিনের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের পেস আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই পরিবর্তনগুলো মাঠের পারফরম্যান্সে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং বাংলাদেশ সফরের শেষ অংশে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না।