খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বিশ্বজয়ের পর থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ যেন ভুলেই গিয়েছিল স্পেন। অবশেষে দীর্ঘ ১৬ বছরের সেই খরা কাটাল স্প্যানিশরা। লস অ্যাঞ্জেলেসের ইনগেলউডের ঐতিহ্যবাহী সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে স্পেন। এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে যেমন স্পেনের ফুটবল পুনরুত্থানের গল্প লেখা হলো, তেমনি লড়াকু খেলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো বেলজিয়ামকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। মাঝমাঠের তারকা পেদ্রির ইনজুরির কারণে এই ম্যাচে স্পেনের একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন ফাবিয়ান রুইজ। আর তিনিই হয়ে ওঠেন প্রথমার্ধের নায়ক। ম্যাচের ৩১ মিনিটে লস ব্ল্যাঙ্কোসদের রক্ষণভাগ ভেঙে দলকে এগিয়ে নেন রুইজ। ডান প্রান্ত থেকে উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামালের চমৎকার কাটব্যাক নিয়ন্ত্রণে নেন দানি অলমো। অলমোর নেওয়া জোরালো শট বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া প্রাথমিকভাবে ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বল ডি-বক্সে দাঁড়িয়ে থাকা রুইজের পায়ে চলে যায়। সুযোগ হাতছাড়া না করে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান তিনি।
তবে স্পেনের এই উল্লাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি বেলজিয়াম। পিছিয়ে পড়ার মাত্র ৯ মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ৪০ মিনিটে সমতা ফেরান বেলজিয়ামের ইনফর্ম ফরোয়ার্ড শার্ল ডি কেটেলারা। ডান পাশ থেকে ভেসে আসা একটি নিখুঁত ক্রসে অসাধারণ হেডে গোল করেন তিনি। আগের ম্যাচেও জোড়া গোল করা এই ফরোয়ার্ডের নৈপুণ্যে ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। তবে ৭০ মিনিটের মাথায় বড়সড় ধাক্কা খায় বেলজিয়াম শিবির। গুরুতর চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন দলের অতন্দ্র প্রহরী ও অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তার পরিবর্তে গোলপোস্টের দায়িত্ব নেন সিন লেমেন্স।
কোর্তোয়ার বিদায়ের পর স্পেন চড়াও হওয়ার চেষ্টা করলেও ম্যাচের মাঝপথে একবার গোল হজমের হাত থেকে বেঁচে যায় তারা। স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন বক্সের বাইরে চলে এলে বেলজিয়ামের অ্যালেক্সান্ডার সালমেকার্স বল পেয়ে ফাঁকা পোস্টে শট না নিয়ে বক্সে থাকা রোমেলু লুকাকুর দিকে ক্রস বাড়ান। তবে ডিফেন্ডার এইমেরিক লাপোর্তে দারুণ দক্ষতায় সেই বল ক্লিয়ার করে স্পেনের নিশ্চিত বিপদ রক্ষা করেন।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে স্পেনের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন মিকেল মেরিনো। পাউ কুবারসির একটি জোরালো শট বেলজিয়ামের বদলি গোলরক্ষক সিন লেমেন্স কোনোমতে প্রতিহত করলেও বলটি পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি। বক্সে ওত পেতে থাকা মেরিনো ফিরতি বলে বুলেট গতির শটে গোল করে স্পেনের জয় নিশ্চিত করেন। এর আগের ম্যাচে পর্তুগালের বিদায় ঘণ্টা বাজানো মেরিনোই আবারও স্প্যানিশদের জয়ের নায়ক বনে যান।
এই নাটকীয় জয়ের মধ্য দিয়ে স্পেন ফুটবল বিশ্বকে জানান দিল যে, তারা আবারও তাদের পুরনো গৌরব ফিরে পেতে প্রস্তুত। অন্য দিকে দারুণ লড়াই করেও টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই অশ্রুসিক্ত চোখে বিদায় নিতে হলো বেলজিয়ামকে।