খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের লড়াই জমে উঠেছে। এই মুহূর্তে গোলদাতার তালিকার শীর্ষ দুই স্থানে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং লিওনেল মেসি, দুজনেরই গোলসংখ্যা সমান ৮টি করে। সমসংখ্যক গোল করার পরও ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি জেতার দৌড়ে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির চেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। স্বভাবতই ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, গোলসংখ্যা এক হওয়ার পরও কেন এবং কীভাবে একজন খেলোয়াড় অন্যজনের চেয়ে এগিয়ে থাকেন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল্ডেন বুট নির্ধারণের ক্ষেত্রে ফিফা কেবল কে কতটি গোল করেছেন, তা বিবেচনা করে না। টুর্নামেন্ট শেষে যদি দুই বা তার বেশি ফুটবলারের গোলসংখ্যা একদম সমান হয়ে যায়, তখন বিজয়ী বেছে নিতে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিছু নির্দিষ্ট ‘টাইব্রেকার’ নিয়ম অনুসরণ করে।
ফিফার অফিশিয়াল নিয়ম অনুযায়ী, গোলসংখ্যা সমান হলে প্রথম টাইব্রেকার হিসেবে দেখা হয় সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের ‘অ্যাসিস্ট’ বা গোল করানোর সংখ্যা। অর্থাৎ, সতীর্থদের গোল করতে সরাসরি কার অবদান কতটি ছিল। যদি কাকতালীয়ভাবে অ্যাসিস্টের সংখ্যাও সমান হয়ে যায়, তবে দ্বিতীয় টাইব্রেকার হিসেবে বিবেচনা করা হয় খেলার সময়কে। টুর্নামেন্টে সব ম্যাচ মিলিয়ে যে খেলোয়াড় তুলনামূলকভাবে কম মিনিট মাঠে খেলেছেন, তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
বর্তমান পরিসংখ্যান ও এই নিয়মের মারপ্যাঁচেই মেসির চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন এমবাপ্পে। ফরাসি এই ফরোয়ার্ড এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে ৮টি অনবদ্য গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও ৩টি গোল করিয়েছেন। ফলে মাঠের খেলায় মোট ১১টি গোলে সরাসরি ভূমিকা রয়েছে তার। অন্য দিকে, কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ৮টি গোল করলেও অ্যাসিস্ট করতে পেরেছেন কেবল ২টি। ফলে গোলের ক্ষেত্রে তার সরাসরি অবদান দাঁড়ায় ১০টিতে।
হিসাব অনুযায়ী, যদি এখনই বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যেত, তবে ৩টি অ্যাসিস্ট থাকার সুবাদে গোল্ডেন বুটটি উঠত এমবাপ্পেরই হাতে। অবশ্য লড়াই এখনো শেষ হয়ে যায়নি। সেমিফাইনালের মেগা ম্যাচ এবং ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে এই দুই মহাতারকার সামনেই সুযোগ রয়েছে নিজেদের গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়ার। তবে এই দুই জনের বাইরেও গোল্ডেন বুটের রেসে ভালোভাবেই টিকে আছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম এবং নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। শেষ মুহূর্তের পারফরম্যান্সের ওপরই নির্ভর করছে কার ভাগ্যে জুটবে বিশ্বমঞ্চের এই সেরা গোলদাতার স্মারক।