খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
বাংলা সাহিত্য, সাংবাদিকতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসচর্চায় এক অনন্য উজ্জ্বল নাম রশীদ হায়দার। তিনি ছিলেন একাধারে প্রখ্যাত লেখক, গবেষক, সাংবাদিক, সম্পাদক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। সৃজনশীল সাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধের দলিল সংরক্ষণে তাঁর অবদান বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
যদিও তিনি রশীদ হায়দার নামেই সর্বাধিক পরিচিত, তাঁর পূর্ণ নাম ছিল শেখ ফয়সাল আবদুর রশীদ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন হায়দার। স্নেহের ডাকনাম ছিল দুলাল।
১৯৪১ সালের ১৫ জুলাই পাবনা জেলার দোহাপাড়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী হায়দার পরিবারে তাঁর জন্ম।
রশীদ হায়দারের সাহিত্যকর্ম ছিল বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক। গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, অনুবাদ, স্মৃতিকথা, গবেষণা এবং সম্পাদনা—সব মিলিয়ে তিনি রচনা ও সম্পাদনা করেছেন সত্তরেরও অধিক গ্রন্থ। বিশেষ করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও দলিলভিত্তিক গবেষণায় তাঁর নিরলস সাধনা তাঁকে স্বতন্ত্র মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
সাহিত্য ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অর্জন করেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, হুমায়ুন কাদির পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা।
শিক্ষাজীবনেও তিনি ছিলেন কৃতিত্বের স্বাক্ষর। ১৯৫৯ সালে গোপালগঞ্জ ইনস্টিটিউশন থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬১ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই বড় ভাই, প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব জিয়া হায়দারের অনুপ্রেরণায় সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি জনপ্রিয় সাপ্তাহিক চিত্রালী পত্রিকায় কাজ শুরু করেন। ১৯৬৪ সালে পাকিস্তান রাইটার্স গিল্ডের মুখপত্র ‘পরিক্রম’-এর সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭২ সালে তিনি বাংলা একাডেমিতে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর এই গুণী সাহিত্যিক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পরলোকগমন করেন। কিন্তু তাঁর সাহিত্যকীর্তি, গবেষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে অসামান্য অবদান তাঁকে বাঙালির স্মৃতিতে চিরজাগরুক রাখবে।
জন্মদিনে এই প্রাজ্ঞ লেখক, গবেষক ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের নিষ্ঠাবান অন্বেষীর প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র স্মরণ।