লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্যোগে একটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি অভ্যন্তরীণ সড়কে এই মিছিলের ঘটনা ঘটে। মিছিলের পরপরই এর একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, একটি বড় ব্যানারকে সামনে রেখে বেশ কিছু তরুণ ও যুবক দ্রুত গতিতে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। সেই ব্যানারে লেখা ছিল, ‘গোপালগঞ্জ গণ-আদালত ও অবৈধ আইসিটি ট্রাইব্যুনালে দেশনেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে এবং রামগতি উপজেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ওপর অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল।’ মিছিল থেকে অংশগ্রহণকারীরা দলটির ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক স্লোগান ‘জয় বাংলা’ দিতে থাকেন। এর পাশাপাশি তারা ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা’ এবং ‘রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়’ ইত্যাদি বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে থাকেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিছিলটি দীর্ঘ সময় স্থায়ী ছিল না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দলটির নেতা-কর্মীরা হঠাৎ করেই রাজপথে জড়ো হন। তারা ব্যানারসহ স্লোগান দিতে দিতে সড়ক ধরে কিছুদূর অগ্রসর হন এবং কোনো ধরনের বড় জমায়েত তৈরি হওয়ার আগেই দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আত্মগোপন করেন। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে বড় কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগ না পাওয়ায় এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঝটিকা মিছিলের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরই স্থানীয় থানা পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নড়েচড়ে বসেন। এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বজায় রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন মোড়ে পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়।
এই বিষয়ে রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিটন দেওয়ান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতা-কর্মীদের এই ঝটিকা মিছিলের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি ও আইনগতভাবে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ একটি দলের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমরা অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে আছি। অপ্রীতিকর যেকোনো পরিস্থিতি এড়াতে আমাদের একাধিক টিম ইতিমধ্যেই মাঠে কাজ শুরু করেছে।’
ওসি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। যেকোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং রামগতি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।



