খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে দুইজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন দেবীনগর গ্রামের মৃত চাঁদ আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০) এবং খানপুর গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে আব্দুল শেখ (২৫)। আহত মুল্লুক মণ্ডল বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে সামিরুল ও মিন্টু চৌকিদার গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষের পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। রাত গভীর হলে বিরোধের জের ধরে একদল অস্ত্রধারী হামলাকারী দেবীনগর এলাকায় ফারুক হোসেন ও আব্দুল শেখের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলার সময় মুল্লুক মণ্ডলও আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। তবে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ফারুক হোসেন ও আব্দুল শেখ ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত মুল্লুক মণ্ডলকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার খবর পেয়ে খোকসা থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পর সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে স্থানীয় আধিপত্যের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার, পূর্ববিরোধ এবং গ্রুপভিত্তিক সংঘাতের মতো বিষয়গুলো অনেক সময় সহিংস রূপ নেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।