ঝালকাঠি শহরের টিএন্ডটি সড়ক এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মলিনা রায় (৫৫) নামে এক নারীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে বাসায় চুরি বা ডাকাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, ফলে হত্যার পেছনে লুটপাটের উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের টিএন্ডটি সড়কে তপন হালদারের মালিকানাধীন একটি ভবনের ভাড়া বাসায় স্বামী রতন রায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন মলিনা রায়। শুক্রবার পরিবারের সদস্যরা কীর্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলী এলাকায় অনুষ্ঠিত রথযাত্রা উৎসবে অংশ নিতে বাড়ির বাইরে যান। রাতে ফিরে এসে তারা দেখতে পান, প্রধান ফটকের দরজা খোলা এবং ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি দেখে সন্দেহ হলে ঘরের বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে একটি কক্ষে বস্তাবন্দি অবস্থায় মলিনা রায়ের মরদেহ দেখতে পান তারা। সঙ্গে সঙ্গে ঝালকাঠি সদর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় মলিনা রায়ের হাত-পা বাঁধা ছিল এবং মাথায় বস্তা পরানো অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পরিবারের অভিযোগ, হত্যার পর দুর্বৃত্তরা বাসা থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। শুধু ওই ফ্ল্যাটেই নয়, একই ভবনের আরও তিনটি ফ্ল্যাটে চুরি বা ডাকাতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভবনের একাধিক দরজা ভাঙা অবস্থায়ও দেখা যায়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, সংঘবদ্ধ একটি দল ভবনে প্রবেশ করে একাধিক বাসায় লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের ধারণা, ডাকাতির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকেছিল। সে সময় মলিনা রায় বাধা দিলে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্তসংশ্লিষ্ট সদস্যরা। আলামত বিশ্লেষণ, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য এবং আশপাশের তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এস. এম. বায়জীদ ইবনে আকবর বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।