খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
ময়মনসিংহের ভালুকায় শিল্পাঞ্চলের একটি নির্মাণাধীন ভবনের ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) ট্যাংকে পড়ে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও এলাকায় অবস্থিত এক্সিল্যান্ড সিরামিক্স গ্রুপের কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শ্রমিকদের নাম শফিকুল ইসলাম ও রুমেল। এই ঘটনার পর কারখানার অন্য শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম পেশায় একজন মেকানিক্যাল ওয়েল্ডার ছিলেন এবং রুমেল সিভিল হেলপার হিসেবে ওই কারখানায় কাজ করতেন। প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও তারা কারখানার নির্মাণাধীন বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি প্ল্যান্টের ওপর কাজ করছিলেন।
সহকর্মী শ্রমিকদের অভিযোগ, প্ল্যান্টের ওপর কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত তারা পা ফসকে গভীর একটি ট্যাংকের ভেতরে পড়ে যান। ট্যাংকের ভেতর থেকে তাদের চিৎকার শোনা গেলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকাজে চরম উদাসীনতা দেখায়। শ্রমিকদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে শফিকুল ও রুমেল ট্যাংকের ভেতরে আটকা পড়ে থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কার্যকর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেনি। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিতে কিংবা নিজস্ব উদ্যোগে জরুরি ভিত্তিতে তাদের টেনে তোলার ক্ষেত্রে অবহেলা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এই ধীরগতির কারণেই মূলত তাদের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে সহকর্মীরা অভিযোগ তুলছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শিল্প পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে শিল্প পুলিশ ময়মনসিংহ-৫ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গুপিনাথ কাঞ্জিলাল গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পারিপার্শ্বিক আলামত সংগ্রহ করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী এবং এর পেছনে কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের অবহেলা বা শ্রমিকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের বিষয় রয়েছে কিনা, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তদন্তে যদি কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি, সময়মতো উদ্ধার কাজ শুরু না করার প্রমাণ কিংবা কাজের জায়গায় শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সামগ্রী (যেমন সেফটি বেল্ট বা হেলমেট) না রাখার মতো ত্রুটি পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর কারখানার সাধারণ শ্রমিকেরা কর্মস্থলে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা ছাড়াই তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। নিহত দুই শ্রমিকের সহকর্মীরা এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দায়ীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং কারখানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।