খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল আরও বিশাল পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। শতবর্ষী সেই আসরে দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৪টি করার একটি আলোচনা শুরু হয়েছে ফুটবলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে। তবে ফুটবলের বৈশ্বিক সংস্থার এমন চিন্তাভাবনাকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন স্প্যানিশ ফুটবল লিগ ‘লা লিগা’র সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। ফিফার এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ নিয়ে এখন থেকেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু ফিফার প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ম্যাচ সংখ্যা ও দলের পরিধি বাড়ানোর নীতি একেবারেই পছন্দ হচ্ছে না ইউরোপীয় ফুটবলের বড় কর্তাদের। ইতালির বিখ্যাত ক্রীড়া দৈনিক লা গাজ্জেত্তা দেল্লো স্পোর্তে প্রকাশিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তেবাস ক্ষোভ উগরে দেন। সেখানে তিনি শুধু ফিফার নতুন ধারণার প্রতিবাদই করেননি, বরং বর্তমান ফিফা সভাপতির ভূমিকা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন।
সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনোর বিগত দশ বছরের কাজের সমালোচনা করে লা লিগা প্রধান বলেন যে, ফিফা সভাপতি দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পদে বসে আছেন। তবে তিনি যে ব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে কাজ পরিচালনা করছেন, মূল সমস্যাটা সেখানেই। তেবাসের মতে, বর্তমান পরিচালনা পদ্ধতির ভেতরেই একটি বড় কাঠামোগত দুর্বলতা থেকে গেছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইনফান্তিনোর প্রভাব ও অধ্যায় খুব শীঘ্রই শেষের দিকে চলে যাবে।
আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের অতিরিক্ত চাপ যে ঘরোয়া লিগগুলোর স্থায়িত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক করেন তেবাস। তিনি মনে করেন, মাত্র এক দেড় মাসের একটি টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে মূল ফুটবল ইন্ডাস্ট্রিকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দেওয়া কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বিশ্বজুড়ে পেশাদার ফুটবল লিগগুলো কোটি কোটি ডলারের অর্থনীতি সামলায় এবং লাখ লাখ মানুষের রুটি-রুজির ব্যবস্থা করে। অথচ বিশ্বকাপের মতো আসরে খুব অল্পসংখ্যক ফুটবলার খেলার সুযোগ পান। সেই সামান্য কয়েকজন খেলোয়াড়ের সুবিধার কথা ভেবে পুরো বছরের নিয়মিত ফুটবল সূচি এলোমেলো করে দেওয়া এবং ঘরোয়া পরিবেশ নষ্ট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
ফিফা সম্প্রতি ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮টি করেছে। এর মধ্যেই আগামী দিনের আসরগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়িয়ে ৬৪ করার গুঞ্জন ইউরোপীয় লিগগুলোর কর্তাদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। তেবাসের এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ইউরোপের অন্যান্য বড় ফুটবল লিগের মনোভাবেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন ফুটবল সংশ্লিষ্টরা।