রাজধানীর মিরপুরের ১৩ নম্বর এলাকায় রাতের আঁধারে গোলাগুলির ঘটনায় যুবদল নেতাসহ অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাফরুল থানার আওতাধীন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। একই ঘটনায় অস্ত্রধারী এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন ইউসুফ আলী (৪৫), নালাম সরদার (৪৫) ও মনির হোসেন (৩২)। তাদের মধ্যে ইউসুফ আলী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অপরদিকে, ঘটনার সময় সেখানে থাকা কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুর রহমানও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় বা আহতের সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
স্থানীয় বিএনপি কর্মী মো. সুজনের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকায় যুবদল নেতা হাফিজুর রহমানসহ সাত থেকে আটজন ব্যক্তি একসঙ্গে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে তিনজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি সেখানে এসে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। আকস্মিক হামলায় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটে যান।
সুজনের দাবি, হামলায় হাফিজুর রহমানের শরীরে দুটি গুলি লাগে। এ ছাড়া বিএনপি নেতা ইউসুফ আলীর বুকে একটি গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ অন্য দুই ব্যক্তি নালাম সরদার ও মনির হোসেন কীভাবে এবং কোন অবস্থায় আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
এদিকে গোলাগুলির ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সন্দেহভাজন এক অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে আটক ব্যক্তির নাম-পরিচয় এবং তার কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম গোলাগুলির ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনায় দুইজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যের মধ্যে আহতের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ফলে ঘটনাটিতে প্রকৃতপক্ষে কতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হতে পারে।
পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে গোলাগুলির কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় কিংবা ঘটনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক বিরোধ, পূর্বশত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যালোচনার মাধ্যমে হামলার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রাজধানীর জনবহুল এলাকায় এ ধরনের প্রকাশ্য গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের সময়ে আবাসিক এলাকায় অস্ত্রের ব্যবহার ও গুলির শব্দ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।